মহারাষ্ট্র সরকারে সংকট: শিবসেনা মন্ত্রীদের মন্ত্রিসভা বয়কট, চাপে বিজেপি

মহাযুতি জোটের মন্ত্রিসভার বৈঠক বয়কট করলেন শিবসেনা (শিন্দে) মন্ত্রীরা। বিজেপির 'দল ভাঙার অভিযোগ' নিয়ে উত্তেজনা চরমে, প্রশ্ন সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আবারও অশনি সংকেত। দেবেন্দ্র ফড়নবিশের নেতৃত্বাধীন মহাযুতি সরকার জোট শরিকদের তিক্ততার মুখোমুখি হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্য মন্ত্রিসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাপ্তাহিক বৈঠক বয়কট করেছেন একনাথ শিন্ডের শিবসেনার মন্ত্রীরা। এই ঘটনাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মহারাষ্ট্র সরকার-এর ভিত্তিতে বড় ফাটল হিসেবেই দেখছেন।

বৈঠক বয়কটের পেছনে সরাসরি কারণ হিসেবে বিজেপির বিরুদ্ধে দল ভাঙার অভিযোগ তুলেছে শিবসেনা (শিন্দে) দল। তাদের অভিযোগ, সামনে স্থানীয় সংস্থা নির্বাচন। তার আগে থেকেই বিভিন্ন জেলা ও তালুকে শিবসেনার নেতাকর্মীদের ‘চোরাশিকার’ করছে বিজেপি। একের পর এক বড় নেতা শত শত সমর্থক নিয়ে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।

সম্প্রতি কল্যাণ-ডোম্বিভলির পূজা মাত্রে এবং দয়ানন্দ গায়কোয়াড নামে শিবসেনার দুই প্রভাবশালী নেতা দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন। এই ঘটনায় জোটের মধ্যে চাপা উত্তেজনা প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নেয়। শিবসেনা মন্ত্রীদের এই বয়কট সেই উত্তেজনারই চূড়ান্ত প্রকাশ।

মহারাষ্ট্র সরকারে সংকট: শিবসেনা মন্ত্রীদের মন্ত্রিসভা বয়কট, চাপে বিজেপি

যদিও এই রাজনৈতিক অগ্নিপরীক্ষার মাঝেও ফাটল মেরামতের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। বৈঠক বয়কটকারী এক মন্ত্রী প্রতাপ সারনায়েক জানিয়েছেন, তারা মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে দেখা করে তাদের ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন। সারনায়েকের দাবি, ফড়নবিশ আশ্বস্ত করেছেন যে ‘এই ভুলগুলি নিচুতলায় হয় এবং সংশোধন করা হবে’

মহারাষ্ট্র সরকারে সংকট: শিবসেনা মন্ত্রীদের মন্ত্রিসভা বয়কট, চাপে বিজেপি
মহারাষ্ট্র সরকারে সংকট: শিবসেনা মন্ত্রীদের মন্ত্রিসভা বয়কট, চাপে বিজেপি

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর জোটসঙ্গীরা একমত নন। ফড়নবিশ নিজেই পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন যে, উল্লাসনগরে শিবসেনাই প্রথম বিজেপির কর্মীদের ভাঙিয়েছিল। রাজ্যের আরেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও এনসিপি প্রধানের ভূমিকা আরও অস্পষ্ট। অজিত পওয়ার এই পুরো বিবাদে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে, বিজেপি নেতা চন্দ্রশেখর বাওয়ানকুলে পুরো ঘটনাটিই হালকা করে দেখার চেষ্টা করেছেন। তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠক বয়কটের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় শিবসেনার মন্ত্রীরা বৈঠকে আসতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘কোনও দলই জোট শরিকদের কর্মীদের নিজেদের দলে নেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষোভ থাকতে পারে।’

এই সংকটের সুযোগ নিয়ে সরাসরি হামলা চালিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) দলের নেতা আদিত্য ঠাকরে। তিনি মহাযুতি সরকার-কে কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘দলীয় স্বার্থের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠক বয়কট করা মহারাষ্ট্রের জনগণকে অপমান করা।’ তাঁর বক্তব্য, মন্ত্রিসভার বৈঠক জনগণের সমস্যা সমাধানের জন্য, জোটের ছোটখাট বিবাদ মোকাবেলা করার জন্য নয়।

শিবসেনা (উদ্ধব) দলের আরেক নেত্রী সুষমা আন্ধারে আরও স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিজেপি শিন্ডেকে ব্যবহার করবে এবং তার পরে তাঁকে রাজনৈতিক ভাবে পুরো শেষ করে দেবে। এই মন্তব্য রাজনৈতিক গলাঘুষোকে আরও উসকে দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংকটের শিকড় অনেক গভীরে। গত বছর বিধানসভা নির্বাচনের পর একনাথ শিন্ডেকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার ছাড়তে হয়েছিল। সেই নিয়ে শিবসেনা নেতা-কর্মীদের মনে গভীর ক্ষোভ ছিল। এছাড়াও, কংগ্রেস এবং এনসিপি (শরদচন্দ্র পওয়ার) দলের নেতাদের বিজেপিতে নেওয়ার মতো বেশ কিছু ইস্যু নিয়েও মহাযুতির দুই শরিক দলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা ছিল।

এই পরিস্থিতিতে মহারাষ্ট্র সরকার-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংস্থা নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটের ভিতরকার এই ফাটল যদি না মেটে, তাহলে রাজ্যের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সম্ভাবনাকেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সকলের চোখ এখন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের পরবর্তী রাজনৈতিক চালের দিকে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত