২০২৭ সালের আইসিসি (ICC) ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আনল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (Bangladesh Cricket Board)। মেহেদি হাসান মিরাজের (Mehidy Hasan Miraz) পরিবর্তে জাতীয় দলের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস (Litton Das)। ইতিমধ্যেই টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বে থাকা লিটন এবার ওয়ানডে দলকেও নেতৃত্ব দেবেন। বোর্ড জানিয়েছে, ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁর হাতেই দলের দায়িত্ব থাকবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বিশ্বকাপের আগে স্থায়ী নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন করা হয়েছে বলে মনে করছে ক্রিকেট মহল।
লিটনের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা নতুন নয়। এর আগেও একাধিকবার তিনি বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। বিশেষ করে ২০২২ সালে ভারতের (India) বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সময় নেতৃত্বে ছিলেন লিটন। সেই সাফল্যের স্মৃতি মাথায় রেখেই এবার তাঁকে পূর্ণসময়ের অধিনায়ক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সাদা বলের ক্রিকেটে মেহেদি হাসান মিরাজের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা বাড়ছিল। জিম্বাবোয়ের (Zimbabwe) বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের পরাজয়ের পর নেতৃত্ব পরিবর্তনের জল্পনা আরও জোরালো হয়। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল (Tamim Iqbal) স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ওই সিরিজের ফলাফলের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি।
তামিমের বক্তব্য, তিন ফরম্যাটে আলাদা নেতৃত্বের নীতি গ্রহণ করেছে বোর্ড। তাঁর মতে, লাল বল ও সাদা বলের ক্রিকেটে পৃথক অধিনায়ক থাকলে দল পরিচালনা আরও কার্যকর হয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, মিরাজ একজন সফল অধিনায়ক হলেও এই মুহূর্তে তাঁকে একজন অলরাউন্ডার হিসেবে নিজের সেরাটা ফিরে পাওয়ার সুযোগ করে দিতেই নেতৃত্বের চাপ কমানো হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, মিরাজের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ ২৪টি ওয়ানডে ম্যাচের মধ্যে ১০টিতে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে, লিটন দাস ইতিমধ্যেই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দলের নেতৃত্ব সামলাচ্ছেন এবং এখন তাঁর কাঁধেই তুলে দেওয়া হল বাংলাদেশের সীমিত ওভারের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
ব্যাট হাতেও বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার লিটন। এখন পর্যন্ত ১০৪টি ওয়ানডে ম্যাচে তিনি ২,৮৬৯ রান করেছেন। তাঁর গড় প্রায় ৩০, পাশাপাশি রয়েছে পাঁচটি শতরান। ওপেনার এবং মিডল অর্ডার—দুই ভূমিকাতেই দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একই সঙ্গে ওয়ানডে দলের সহ-অধিনায়ক হিসেবে তৌহিদ হৃদয় (Towhid Hridoy)-এর নাম ঘোষণা করেছে। টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্বে বহাল থাকছেন নাজমুল হোসেন শান্ত (Najmul Hossain Shanto)।
বিশ্বকাপের আগে নেতৃত্বে এই বড় পরিবর্তন বাংলাদেশের ক্রিকেটে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার। ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের অভিজ্ঞতা এবং সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিটন দাসের সামনে এবার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—বাংলাদেশকে ২০২৭ বিশ্বকাপে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তোলা।



