বিশ্বকাপের পর ফিরেই ম্যাজিক! জোড়া গোলে ইন্টার মিয়ামিকে জেতালেন লিওনেল মেসি, লিগস কাপে দুরন্ত সূচনা

বিশ্বকাপের পর প্রথম পূর্ণ ম্যাচেই দুর্দান্ত ছন্দে লিওনেল মেসি। জোড়া গোল, একটি অ্যাসিস্ট এবং নতুন গোলরেকর্ড গড়ে লিগস কাপে ৪-২ ব্যবধানে ইন্টার মিয়ামিকে জয় এনে দিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিশ্বকাপ শেষে ক্লাব ফুটবলে ফিরেই আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। লিগস কাপ (Leagues Cup) ২০২৬-এর প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে ইন্টার মিয়ামি (Inter Miami CF)-কে ৪-২ ব্যবধানে অ্যাটলেটিকো দে সান লুইস (Atlético de San Luis)-এর বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয় এনে দিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মিয়ামির নু স্টেডিয়ামে (Nu Stadium) অনুষ্ঠিত ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও দাপটের সঙ্গে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা।

ম্যাচের শুরুতেই চমক দেয় সান লুইস। চতুর্থ মিনিটে ডেভিড রদ্রিগেজ (David Rodriguez)-এর হেডে এগিয়ে যায় মেক্সিকান দল। তবে সেই লিড বেশিক্ষণ টিকতে দেয়নি ইন্টার মিয়ামি। নোয়া অ্যালেন (Noah Allen)-এর নিখুঁত ক্রস থেকে দৌড়তে দৌড়তেই অসাধারণ ভলিতে সমতা ফেরান মেসি। তাঁর এই গোলে স্টেডিয়ামজুড়ে উচ্ছ্বাসের ঢেউ ওঠে।

ম্যাচের পরে ইন্টার মিয়ামির কোচ গিয়ের্মো হোয়োস (Guillermo Hoyos) মেসির প্রথম গোলের প্রশংসায় বলেন, চলন্ত অবস্থায় বাতাসে ভেসে আসা বলকে যেভাবে বাঁ পায়ে নিখুঁত ভলিতে জালে জড়িয়েছেন, তা যেন ফুটবলের ক্যানভাসে এক শিল্পকর্ম। তাঁর কথায়, “যদি চিত্রকলার সঙ্গে তুলনা করা হয়, তবে সেটা পিকাসোর কাজের মতো।”

বিশ্বকাপ চলাকালীন মেসির অনুপস্থিতিতে দলের দায়িত্ব সামলেছিলেন লুইস সুয়ারেজ (Luis Suárez)। তবে এই ম্যাচে তাঁকে পায়নি মিয়ামি। ২০২৫ সালের লিগস কাপ ফাইনালের একটি বিতর্কিত ঘটনার জেরে ছয় ম্যাচের নির্বাসনের প্রথম ম্যাচে ছিলেন উরুগুয়ান তারকা। ফলে এবারের লিগস কাপেও তাঁর খেলা হচ্ছে না।

প্রথমার্ধেই ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইন্টার মিয়ামি। নোয়া অ্যালেনের আরেকটি দারুণ পাস থেকে টেলাস্কো সেগোভিয়া (Telasco Segovia) গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। সেই গোলে অ্যাসিস্টও করেন মেসি। এরপর আবারও অ্যালেনের পাস থেকেই বক্সের মধ্যে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

এই জোড়া গোলের সুবাদে লিগস কাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও দখল করেন মেসি। ২০২৩ সালে প্রতিযোগিতার সম্প্রসারিত সংস্করণ শুরু হওয়ার পর থেকে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৪, যা লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি (LAFC)-র ডেনিস বুয়াঙ্গা (Denis Bouanga)-কে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড। পাশাপাশি লিগস কাপে নিজের ১২ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এটি মেসির পঞ্চম জোড়া গোলের ম্যাচ।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে কর্নার থেকে হেডে গোল করেন মিকায়েল (Micael)। তাতেই বিরতির আগেই ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইন্টার মিয়ামি। অন্যদিকে নোয়া অ্যালেন নিজের ক্যারিয়ারে প্রথমবার একটি ম্যাচে তিনটি অ্যাসিস্ট করার কৃতিত্বও অর্জন করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে রাফা লোরেন্তে (Rafa Llorente)-র দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে ব্যবধান কিছুটা কমায় সান লুইস। এরপর প্রবল বৃষ্টির কারণে কিছু সময়ের জন্য খেলা বন্ধ থাকলেও ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি সফরকারী দল। শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানে স্বচ্ছন্দ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মিয়ামি।

তবে জয়ের মাঝেও কিছুটা দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে মাতেও সিলভেত্তি (Mateo Silvetti)-র চোট। বদলি হিসেবে নেমে বাঁ কাঁধে চোট পেয়ে ৮৩ মিনিটে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। কোচ হোয়োস জানান, তাঁর কাঁধের হাড় সরে গিয়েছে এবং দ্রুত সুস্থতার কামনা করেছেন তিনি।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা (Argentina)-কে ফাইনালে তুললেও স্পেনের (Spain) কাছে হারতে হয়েছিল মেসিদের। ক্লাবে ফিরে সেই হতাশা যেন এক ঝটকায় ভুলিয়ে দিলেন তিনি। ২০২৩ সালে ইন্টার মিয়ামিকে লিগস কাপ জেতানো মেসি এবারও একই স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছেন। আগামী শনিবার মন্টেরে (Monterrey)-র বিরুদ্ধে ইন্টার মিয়ামির পরের ম্যাচ, আর রবিবার ন্যাশভিল এসসি (Nashville SC)-র মুখোমুখি হবে অ্যাটলেটিকো দে সান লুইস।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন