পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং ফিলিস্তিনের হামাস এক মঞ্চে জমা হওয়ার ঘটনা কাশ্মীরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির আশঙ্কা, এই জোটের মাধ্যমে পাকিস্তান ও হামাস যৌথভাবে ভূস্বর্গে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করতে পারে। সম্প্রতি, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত একটি বিশাল সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন হামাসের এক শীর্ষনেতা, যা ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে বড় আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে।
কাশ্মীরে সন্ত্রাসী তৎপরতা: লস্কর, জইস ও হামাসের ষড়যন্ত্র
৫ ফেব্রুয়ারি ‘কাশ্মীর সংহতি দিবস’ উপলক্ষে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে লস্কর ও জইশের উঁচু পদস্থ নেতারা একত্রিত হন। কিন্তু এই সমাবেশে প্রথমবার হামাসের একজন শীর্ষ নেতার উপস্থিতি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য সঙ্কেত দিয়েছে। হামাসের মুখপাত্র খালিদ কাদ্দৌমির উপস্থিতি নিয়ে বিশেষ আলোচনা চলছে, কেননা এটি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের ইঙ্গিত দেয়। গোয়েন্দাদের মতে, হামাসের সহায়তায় পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা কাশ্মীরে হামলা চালাতে পারে, যা ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ নামে পরিচিত।
গোয়েন্দাদের উদ্বেগ: হামাসের সঙ্গে লস্কর ও জইসের সম্পর্ক
এদিনের সমাবেশে জইশ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহার ও তার ঘনিষ্ঠ সন্ত্রাসী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, হামাসের উপস্থিতি এক নতুন আশঙ্কা তৈরি করেছে, যেহেতু তারা পশ্চিম এশিয়ায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি আশঙ্কা করছে, হামাসের সহায়তায় পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী কাশ্মীরে বড় ধরনের হামলার ছক কষছে।
কাশ্মীরের নিরাপত্তা: ভারতীয় সরকারের পদক্ষেপ
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ বন্ধ করা। ভারতীয় সেনাবাহিনী ও সন্ত্রাসবিরোধী নীতি শক্তিশালী হওয়ায় কাশ্মীরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ অনেকটাই দমন করা সম্ভব হয়েছে। তবে, ভূস্বর্গে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ প্রতিরোধে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।



