কলকাতা: দুর্গাপুজো মানেই কলকাতার আকাশছোঁয়া প্যান্ডেল, থিমের ঠাকুর আর আলোকসজ্জার জাদু। প্রতিবছর নতুন চমক নিয়ে আসে শহরের বড় বড় পুজো কমিটিগুলো। ২০২৬ সালেও তার ব্যতিক্রম হবে না। কিন্তু চার-পাঁচ দিনে এত ঠাকুর দেখা সম্ভব নয়। তাই আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখা দরকার— কোন ঠাকুর দেখবেন, কীভাবে যাবেন, কখন যাবেন। এই গাইডে রইল কলকাতার ১০টি আইকনিক প্যান্ডেলের তালিকা, যেগুলো ২০২৬ সালে পুজোয় এলে মিস করা চলবে না।
১. সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার (লেবুতলা পার্ক)
শিয়ালদহ স্টেশনের কাছে অবস্থিত এই পুজো কলকাতার অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয়। এখানে প্রতি বছর কোনও না কোনও সামাজিক বার্তা নিয়ে থিম তৈরি হয়। ২০২৬ সালেও চমক থাকবে বলে শোনা যাচ্ছে। ভিড় এড়াতে এখানে সকাল সকাল গিয়ে ঠাকুর দেখে নেওয়াই ভালো।
২. বাগবাজার সার্বজনীন
বাগবাজারের এই পুজো মানেই বাঙালিয়ানা। প্রতিমার গড়ন, সাজ— সবকিছুতেই যেন বাঙালির ঐতিহ্য ফুটে ওঠে। এখানকার প্রতিমা দেখতে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ ভিড় জমান। ২০২৬ সালে এই পুজোয় কী থিম থাকছে, সেটাই এখন দেখার।
৩. কুমারটুলি পার্ক
কুমারটুলি মানেই প্রতিমা শিল্পীদের পাড়া। এখানকার পুজোয় প্রতিমার কারুকার্য এককথায় অনবদ্য। কুমারটুলি পার্কের ঠাকুর দেখতে এলে পাশের মৃৎশিল্পীদের স্টুডিওতেও ঘুরে আসতে পারেন। পুজোর আগে গেলে প্রতিমা তৈরির মুহূর্তও চোখে পড়বে।
৪. একডালিয়া এভারগ্রিন
দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাটের কাছে এই পুজো বিখ্যাত তার থিম আর আলোকসজ্জার জন্য। প্রতিবছরই এখানে অন্যরকম কিছু হতে দেখা যায়। ভিড়ের চাপে ঠাকুর দেখতে একটু ধৈর্য ধরতে হবে, তবে দেখাটা সার্থক।
৫. সিংহি পার্ক
বালিগঞ্জের এই পুজো ছোট কিন্তু নিখুঁত কারুকার্যের জন্য বিখ্যাত। প্রতি বছর এখানকার থিম নিয়ে শহরে চর্চা হয়। ২০২৬ সালেও তারা যে নতুন চমক আনবে, সেটা নিয়ে ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
৬. বোসুপুকুর সীতালা মন্দির
উত্তর কলকাতার এই পুজো বিখ্যাত তার প্রতিমার সাবেকি গড়নের জন্য। এখানকার ঠাকুর দেখলে মনে হবে যেন কোনও জমিদারবাড়ির পুজোয় এসে পড়েছেন। ভিড় কম, কিন্তু দেখার মতো অনেক কিছু।
৭. চেতলা অগ্রণী
দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম বড় এই পুজো প্রতি বছর তার থিমের জন্য সংবাদ শিরোনামে থাকে। এখানকার আলোকসজ্জা আর প্যান্ডেলের বিশালতা চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। ২০২৬ সালেও চেতলা অগ্রণীর থেকে বড় চমক আশা করাই যায়।
৮. বাদামতলা আষাঢ় সংঘ
কালীঘাটের কাছে এই পুজো বিখ্যাত তার থিম আর মণ্ডপসজ্জার জন্য। প্রতিবছরই এখানে ভিড়ের ঢল নামে। এখানে আসতে গেলে পায়ে হেঁটে আসাই ভালো, কারণ গাড়ি পার্কিং পাওয়া মুশকিল।
৯. সুরুচি সংঘ
নিউ আলিপুরের এই পুজো গত কয়েক বছরে তাক লাগিয়ে দিয়েছে তার থিমের বৈচিত্র্যে। প্রতিবারই মনে হয়, বাঃ, এমন ভাবনা কী করে আসে! ২০২৬ সালে সুরুচি সংঘ আবার কী চমক দেয়, সেটা দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন কলকাতাবাসী।
১০. টালা প্রত্যয়
উত্তর কলকাতার টালা অঞ্চলের এই পুজো তার শিল্পভাবনার জন্য পরিচিত। চোখ ধাঁধানো আলো বা বিশাল প্যান্ডেল নয়, বরং চিন্তা-উদ্রেককারী থিম আর নিখুঁত শিল্পকর্মই এদের পরিচয়। যাঁরা ভিড় এড়িয়ে শিল্প দেখতে চান, তাঁদের জন্য এটা আদর্শ জায়গা।
কীভাবে প্যান্ডেল দেখার রুট প্ল্যান করবেন?
কলকাতার প্যান্ডেল দেখতে গেলে ভিড়ই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সেরা সময় হলো মহালয়ার পরের দিন থেকে চতুর্থী পর্যন্ত। তখন ভিড় কম থাকে, আরাম করে ঠাকুর দেখা যায়। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত ভিড়ে ঠাসা থাকে রাস্তা। ২০২৬ সালে দুর্গাপুজোর সঠিক তারিখ ও সূচি জেনে নিতে আমাদের এই আর্টিকেলটা দেখে নিন।
প্যান্ডেল দর্শনের ৫টি জরুরি টিপস:
১. পায়ে হেঁটে চলাফেরা করুন— গাড়ি বা টোটো নিয়ে গেলে আটকে যাবেন
২. সকালে বা ভোরে বেরোন— রাতের ভিড় এড়াতে এটাই সেরা সময়
৩. জলের বোতল সঙ্গে রাখুন— অক্টোবরের গরমে ডিহাইড্রেশন হতে পারে
৪. পাওয়ার ব্যাংক নেবেন— ফোনের চার্জ শেষ মানেই ঠাকুর তোলা শেষ
৫. আগে থেকে গুগল ম্যাপ ডাউনলোড করুন— নেটওয়ার্ক সমস্যা হতে পারে ভিড়ে
প্যান্ডেল দর্শনের এই গাইডটা ফলো করলে ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোয় আপনি কলকাতার সেরা সব ঠাকুর দেখে ফেলতে পারবেন। আর পুজোর সব খবর, প্রস্তুতির টিপস আর গাইড পেতে নজরবন্দির সঙ্গেই থাকুন।



