টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। কয়েক মাস আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন কোয়েল। পরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে সেই রাজ্যসভা আসনের উপনির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হন তিনি। এ বার তাঁর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিজেপি ৪ অক্টোবর কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। পরের দিন, ৫ অক্টোবর, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন এবং মনোনয়ন জমা করেন। নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী, মনোনয়ন জমার শেষ দিন ছিল ৬ অক্টোবর। ৯ অক্টোবর ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোটের দিন নির্ধারিত রয়েছে ১৬ অক্টোবর।
২০২৬ সালের রাজ্যসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস কোয়েল মল্লিক-সহ চারজনকে প্রার্থী করেছিল। অন্য প্রার্থীরা ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়, রাজীব কুমার এবং মেনকা গুরুস্বামী। ওই নির্বাচনে কোয়েল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাংসদ নির্বাচিত হন।
তবে রাজ্যসভায় তাঁর সাংসদজীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। জুলাই মাসে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। সেই সময় তাঁর সাংসদ হিসেবে মেয়াদ আরও কয়েক বছর থাকার কথা ছিল। পদত্যাগের পর থেকেই তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।
অবশেষে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বিজেপি তাঁকে রাজ্যসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করে। এরপরই বিজেপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন জমা দেন অভিনেত্রী। ফলে অল্প কয়েক মাসের ব্যবধানে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ে বড় পরিবর্তন এল।
কোয়েল মল্লিকের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফার কারণেই পশ্চিমবঙ্গের এই রাজ্যসভা আসনটি শূন্য হয়। সেই আসন পূরণ করতে নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করে। ১৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণের সূচি নির্ধারিত রয়েছে।
রাজ্যসভা নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা সরাসরি ভোট দেন না। সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিধায়কেরাই নির্বাচনে ভোট দিয়ে সাংসদ নির্বাচন করেন। তবে কোনও আসনে বৈধ প্রার্থী একজনই থাকলে এবং অন্য কোনও প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না থাকলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না। সে ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
কোয়েল মল্লিকের ক্ষেত্রেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকার খবর সামনে এসেছে। তবে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন আধিকারিকের ঘোষণা বা জয়ের শংসাপত্রের তথ্য যাচাই করা জরুরি।
বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় কোয়েল মল্লিক জানিয়েছিলেন, তিনি মানুষের জন্য কাজ করতে চান। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরও বাংলার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগের কথা বলেছেন তিনি।
তবে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দলবদলের বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের তরফে সমালোচনাও সামনে এসেছে। অন্যদিকে, বিজেপির নেতারা কোয়েলের প্রার্থীপদকে সমর্থন করেছেন।
কোয়েল মল্লিকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন রাজ্যসভা উপনির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফলের উপর নির্ভর করছে। তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলে ফের সংসদের উচ্চকক্ষে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এবার তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় হবে বিজেপির সাংসদ হিসেবে।



