কর্নাটকে ক্ষমতার পালাবদল (Karnataka Power Shift) নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। সিদ্দারামাইয়া নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারের আড়াই বছর পূর্তির দিনই আচমকা দিল্লিতে হাজির হলেন ডিকে শিবকুমারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাধিক কংগ্রেস বিধায়ক। এই সফরকে কেন্দ্র করে জল্পনা ফের মাথা তুলেছে—তবে কি সত্যিই আড়াই বছরের মাথায় বদলে যাবে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী? সিদ্দারামাইয়ার জায়গায় নতুন মুখ হিসেবে আসছেন ডিকে শিবকুমার?
যে ‘গোপন চুক্তি’-র কথা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মহলে ফিসফাস শোনা যাচ্ছিল, সেই চুক্তির শেষ দিন নাকি আজ। যদিও কংগ্রেস শিবির কখনও প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি যে কর্নাটকে ক্ষমতার পালাবদল (Karnataka Power Shift) নিয়ে কোনও লিখিত বা মৌখিক চুক্তি হয়েছিল, তবুও অন্তর্ঘাতের গুঞ্জন ক্রমশই প্রবল হচ্ছে।
দিল্লিমুখী বিধায়কদের মধ্যে রয়েছেন ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাঁদের মধ্যে রামনগরের বিধায়ক ইকবাল হুসেন উল্লেখযোগ্য। তাঁর দাবি, অন্তত ১০০ জন কংগ্রেস বিধায়ক শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। ফলে রাজনৈতিক অন্দরে এই সফরকে নিছক ‘ব্যবসায়িক কাজ’ বলে উড়িয়ে দিতে পারছেন না কেউই।
কর্নাটকে ক্ষমতার পালাবদল আসন্ন, আজই ‘গোপন চুক্তি’র শেষ দিন!
এই পরিস্থিতিতে নতুন করে নজর কাড়ছে শিবকুমারের সাম্প্রতিক মন্তব্য। একদিন আগেই তিনি বলেছেন, “চিরকাল পদ ধরে রাখতে পারি না।” প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ ছাড়ার এই ইঙ্গিত সিদ্দারামাইয়ার প্রতি সরাসরি বার্তা—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এমনকী, শিবকুমারের ভাই ডিকে সুরেশ আরও স্পষ্টভাবে বলেন, “যদি ভাগ্য সঙ্গ দেয়, আমার ভাই মুখ্যমন্ত্রী হবেন।” এই মন্তব্য জল্পনার আঁচকে আরও উসকে দিয়েছে।

কর্নাটকের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমার দু’জনের অবস্থান এবং দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব এতটাই তীব্র যে Karnataka Power Shift এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই সম্প্রদায়ের বড় অংশই শিবকুমারের প্রতি আনুগত্য দেখাচ্ছেন। ফলে নেতৃত্ব পালাবদলের দাবিও জোরালো হচ্ছে।
তবে অন্যদিকে সিদ্দারামাইয়া শিবির বলছে—সরকার স্থিতিশীল, মুখ্যমন্ত্রী বদলের প্রশ্নই ওঠে না। তাঁদের দাবি, দিল্লি সফরকে অযথা রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কংগ্রেসের ভিতরে ভিতরে যে টানাপোড়েন রয়েছে, তা আর ঢেকে রাখা যাচ্ছে না। শাসকদলের একাংশ মনে করছে, আড়াই বছরের মাথায় পালাবদলের চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে দলীয় ক্ষোভ বেড়ে যেতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিদ্দারামাইয়ার অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা কংগ্রেস সরকারকে স্থিতিশীল করেছে, কিন্তু ডিকে শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করার চাপে দলীয় সমীকরণ নড়বড়ে হতে পারে। ভোটের আগে কোনও বড় ধরনের ভাঙন এড়াতেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামলাতে ব্যস্ত।
এখন নজর দিল্লির দরবারে—কংগ্রেস হাইকমান্ড আজ কোন সিদ্ধান্ত নেয়? Karnataka Power Shift-এর জল্পনা কি বাস্তবে রূপ নেবে, নাকি দল ভিতরের দ্বন্দ্ব সামলে সিদ্দারামাইয়াকেই মুখ্যমন্ত্রী করে রাখবে? দিনের শেষে এই প্রশ্নেই আটকে কর্নাটকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।







