মাত্র ৫২ বছর বয়সে শেষ হয়ে গেল অসমের কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী জুবিন গর্গের জীবনযাত্রা। সিঙ্গাপুরে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে তিনি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। গায়ককে ‘প্রিয় ভাই’ সম্বোধন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স–এ শোকবার্তায় লিখেছেন—“সুরে থেকো। তুমি আমাদের হৃদয়ে থাকবে। তোমার গান অমর। গান আমাদের লড়তে শেখায়, বিশ্বাস রাখতে শেখায়। তোমার সুরের ধারা প্রবহমান থাকুক।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও অসমিয়া ভাষায় শোক প্রকাশ করে লিখেছেন—“জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জুবিন গর্গের আকস্মিক মৃত্যুতে আমি স্তম্ভিত। সঙ্গীত জগতে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদান চিরকাল মনে থাকবে। তাঁর গান সবার প্রিয়। পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা। ওম শান্তি।”


জুবিন গর্গের আকস্মিক মৃত্যু শুক্রবার দুপুরে প্রকাশ্যে আসতেই সঙ্গীত জগত শোকস্তব্ধ। তিনি নর্থ ইস্ট ফেস্টিভ্যালে পারফর্ম করতে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন। জানা গেছে, অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে তিনি প্যারাগ্লাইডিং করতে যান। সেই সময় আচমকাই তিনি সমুদ্রের মধ্যে পড়ে যান এবং দীর্ঘ সময় অচৈতন্য অবস্থায় ভেসে থাকেন। খবর পেয়ে দ্রুত সিঙ্গাপুর পুলিশ গায়ককে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি, প্রাণ হারালেন জুবিন গর্গ।
১৯৭২ সালের ১৮ নভেম্বর অসমের জোড়হাটে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর পিতৃদত্ত নাম ছিল জীবন বরঠাকুর। হিন্দি ছবির ‘গ্যাংস্টার’ (২০০৬)-এর ‘ইয়া আলি’ গান দিয়ে জাতীয় খ্যাতি পান তিনি। এরপর বাংলা, অসমিয়া, হিন্দি ও ইংরেজি সহ একাধিক ভাষায় ৪০,০০০–এরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন। তাঁর কণ্ঠে ‘বোঝে না সে বোঝে না’, ‘পরান যায় জ্বলিয়া রে’, ‘খোকা ৪২০’-এর মতো বাংলা হিট গান আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে।
জুবিন গর্গের মৃত্যুতে মমতা–মোদির শোকবার্তা প্রমাণ করে যে তিনি কেবল একজন গায়ক নন, বরং এক আবেগের নাম। তাঁর গান কোটি মানুষের মনে অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসা জাগিয়েছে। অসমিয়া সংস্কৃতি থেকে শুরু করে টলিউড–বলিউডে তাঁর অবদান আজ এক অমূল্য সম্পদ।


সঙ্গীতপ্রেমীদের মতে, জুবিনের অকাল প্রয়াণ ভারতীয় সঙ্গীত–বিশ্বের এক অপূরণীয় ক্ষতি। “সুরে থেকো”—এই বার্তা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সুরের চিরস্থায়িত্বের কথা বললেন, তা অনুরাগীদের হৃদয়ে চিরকাল প্রতিধ্বনিত হবে।








