হরমুজ প্রণালী সংকটে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, ‘দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার’— বার্তা জয়শংকরের

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজ্যসভায় বিদেশমন্ত্রী জয়শংকর জানান, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইজরায়েল সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার ফলে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তা বাড়ছে কূটনৈতিক মহলে। সোমবার রাজ্যসভায় এই প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। তিনি জানান, দেশের স্বার্থ এবং ভারতীয় উপভোক্তাদের নিরাপত্তাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শংকর বলেন, “পশ্চিম এশিয়া ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। চলমান সংঘাত সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে এবং পরিস্থিতি আরও অস্থির করে তুলতে পারে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই সংঘাত ভারতের জন্য উদ্বেগের।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই অপরিশোধিত তেলের দাম ২০২০ সালের পর প্রথমবার ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে পরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বিদেশমন্ত্রী জানান, ভারত সরকার গোটা পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। তাঁর কথায়, “সরকার এই পরিস্থিতির সম্ভাব্য সব প্রভাব খতিয়ে দেখছে। দেশের জাতীয় স্বার্থ, বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের কল্যাণই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

সংঘাত প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানও ফের স্পষ্ট করেন জয়শংকর। তিনি বলেন, “এই উত্তেজনা কমানোর একমাত্র পথ হল আলোচনা ও কূটনীতি। আমরা সব পক্ষকেই সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছি।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারত সরকার এক বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সংলাপের পথে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছিল।

জয়শংকর আরও জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখতে ১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (CCS)-র বৈঠক হয়েছে।

এদিন তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। সংঘাতের পরিস্থিতিতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ইরানের তিনটি যুদ্ধজাহাজকে ভারতের বন্দরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ বর্তমানে কেরলের কোচি বন্দরে অবস্থান করছে।

ভারতের এই পদক্ষেপের জন্য ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতিমধ্যেই দিল্লিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বলে জানান জয়শংকর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত