লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-এ-মহম্মদের শীর্ষ নেতাদের মিটিং পাকিস্থানে! নতুন জঙ্গি আঁতাতে চাঞ্চল্য

লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-এ-মহম্মদের শীর্ষ জঙ্গিদের গোপন বৈঠক ধরা পড়ল রিপোর্টে; অপারেশন সিঁদুরের পর কেন ফের সক্রিয় বাহাওয়ালপুর ঘাঁটি?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরের জইশ হেডকোয়ার্টার আবারও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা মহলে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ভারতের অপারেশন সিঁদুরে ধ্বংস হয়ে যাওয়া একাধিক জঙ্গি ঘাঁটির মধ্যে অন্যতম ছিল এই বাহাওয়ালপুর। কিন্তু সদ্য প্রকাশিত এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, গোপনে সেখানে হয়েছে হাই-ভোল্টেজ জঙ্গি বৈঠক। যেখানে উপস্থিত ছিল লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-এ-মহম্মদের শীর্ষ কমান্ডাররা।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিডিয়ার হাতে এমন একটি ছবি এসেছে যা পরিষ্কার দেখায়—অপারেশন সিঁদুরের ভস্মস্তুপ পেরিয়েও জইশের বাহাওয়ালপুর ঘাঁটি আবার সক্রিয়। আর সেই ঘাঁটিতেই একসঙ্গে বৈঠকে বসেছে দুই কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (LeT) এবং জইশ-এ-মহম্মদ (JeM)

লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-এ-মহম্মদের শীর্ষ নেতাদের মিটিং পাকিস্থানে! নতুন জঙ্গি আঁতাতে চাঞ্চল্য

প্রশ্ন উঠছে—এই বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হল? পাকিস্তানের জঙ্গি নেটওয়ার্ক কি নতুন কোনও বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে?

রিপোর্ট বলছে, বৈঠকে উপস্থিত ছিল লস্কর-ই-তৈবার ডেপুটি চিফ সইফুল্লা কসুরি সহ সংগঠনের একাধিক সিনিয়র কমান্ডার। এই বৈঠক বিশেষভাবে নজর কাড়ছে কারণ বাহাওয়ালপুরে দীর্ঘদিন পর এভাবে দুই জঙ্গি সংগঠনের একসঙ্গে উপস্থিতি দেখা গেল।

ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে মে মাসে চালানো অপারেশন সিঁদুর বাহাওয়ালপুরের ঠিক সেই এলাকাতেই ভয়ঙ্কর বোমাবর্ষণ করেছিল। বলা হয়েছিল, সেখানে থাকা জইশ-জঙ্গিদের অবকাঠামো প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু নতুন রিপোর্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে—জঙ্গি নেটওয়ার্ক ফের মাথা তুলছে এবং পাকিস্তান প্রশাসনের নীরবতা তা সহজতর করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাহাওয়ালপুর জইশ হেডকোয়ার্টার সক্রিয় হওয়া মানেই ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থার সতর্কতা বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষত যখন অতীতে পহেলগাঁও হামলা, পুলওয়ামা হামলা বা লালকেল্লা বিস্ফোরণে এই দুই সংগঠনের সরাসরি যোগ উঠে এসেছে।

এরই সঙ্গে আরেকটি তথ্য উঠে আসছে। দিল্লির লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের তদন্তে পাওয়া গেছে যে জঙ্গিদের ফান্ডিং হয়েছে পাকিস্তানি ‘Sada App’–এর মাধ্যমে। অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কেনা থেকে শুরু করে বিস্ফোরক তৈরির প্রতিটি ধাপেই ছিল এই ডিজিটাল লেনদেনের ভূমিকা। তদন্তকারীরা জানান, এই অ্যাপ আসলে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি মডিউল দ্বারা ব্যবহৃত হয়।

শুধু তাই নয়, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটে আবার নতুন জঙ্গি লঞ্চপ্যাড তৈরি হতে শুরু করেছে। যে অঞ্চলের বহু লঞ্চপ্যাড অপারেশন সিঁদুরে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। কিন্তু পাকিস্তান প্রশাসন এবারও সেই পুরনো জঙ্গি অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে নীরব সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

বাহাওয়ালপুরে জইশ হেডকোয়ার্টারের এই নতুন বৈঠক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ ভারতের বিরুদ্ধে বড়সড় হামলা কিংবা সীমান্তে উত্তেজনা তৈরির আগে এমন কোর-কমিটি বৈঠকই জঙ্গিরা সাধারণত করে থাকে।

ফলে বড় প্রশ্ন—অপারেশন সিঁদুরের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আবারও জইশ-লস্কর জোট কি ভারতকে নিশানা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে? ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত