রবিবার মাঝ আকাশে বৈদ্যুতিন যন্ত্র থেকে ধোঁয়া বেরোনোর ঘটনায় দিল্লি থেকে চেন্নাইগামী ইন্ডিগোর (IndiGo) একটি বিমানের যাত্রাপথ বদল করতে হল। বিমানের উপরের লাগেজ রাখার কেবিনে আগুন লাগার খবর সামনে আসতেই নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটিকে হায়দরাবাদে অবতরণ করানো হয়। পরে অন্য বিমানে যাত্রীদের চেন্নাই পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে বিমান সংস্থা। প্রাথমিকভাবে আগুনের উৎস হিসেবে এক যাত্রীর পাওয়ার ব্যাঙ্কের কথা জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি ইন্ডিগোর 6E 6115 উড়ানের। রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ দিল্লি থেকে উড়েছিল বিমানটি। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিকেল ৪টের মধ্যে চেন্নাই পৌঁছনোর কথা ছিল। কিন্তু মাঝ আকাশে বিমানের যাত্রীদের মালপত্র রাখার ওভারহেড কেবিন থেকে ধোঁয়া ও আগুনের ঘটনা সামনে আসায় পরিস্থিতি বদলে যায়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এক যাত্রীর পাওয়ার ব্যাঙ্ক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। বিমানের ভিতরে আগুনের ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। লাগেজ কেবিন থেকে মালপত্র সরিয়ে নেওয়ার তৎপরতা শুরু হয়। বিমানের কর্মীরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বিমানের ভিতরে যাত্রীদের তৎপরতা এবং লাগেজ কেবিন থেকে জিনিসপত্র নামানোর দৃশ্য দেখা যায় বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরও কোনও ঝুঁকি না নিয়ে বিমানটির গতিপথ বদলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পর হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Rajiv Gandhi International Airport) নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি।
ইন্ডিগোর তরফে জানানো হয়েছে, বিমানের ভিতরে এক যাত্রীর বৈদ্যুতিন যন্ত্র থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা গিয়েছিল। বিমানকর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। নির্ধারিত নিরাপত্তা পদ্ধতি মেনেই পাইলট বিমানটিকে হায়দরাবাদের দিকে নিয়ে যান। ঘটনার জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছে বিমান সংস্থা।
বিমানটির গন্তব্য পরিবর্তনের ফলে যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে চেন্নাই পৌঁছনো সম্ভব হয়নি। পরে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বিকল্প বিমানের ব্যবস্থা করা হয়। বিমানের ভিতরে পাওয়ার ব্যাঙ্ক বা অন্য বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম থেকে ধোঁয়া কিংবা আগুনের ঘটনা উড়ান চলাকালীন নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ঘটনাও তা সামনে আনল।



