কিছু দিন আগেই ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের কাছে ০-৩ চুনকামের লজ্জা সহ্য করতে হয়েছে ভারতকে। তার মাঝে প্রথম টেস্টে খেলছেন না অধিনায়ক রোহিত শর্মা। চোটে বাদ পড়েছেন শুভমন গিল। সেই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এমন একটা মাঠে ভারতকে নামতে হচ্ছে যেখানে অসিরা কোনও দিন হারেনি। পরিস্থিতি পুরোটাই ভারতের বিপক্ষে ছিল। চাপ বাড়ছিল গৌতম গম্ভীর, বিরাট কোহলির উপর। চার দিন পরে সব উধাও। হাসতে হাসতে মাঠ ছাড়লেন যশপ্রীত বুমরারা।
প্যাট কামিন্সদের দর্পচূর্ণ করে সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া। সমস্যা কবলিত এই টিম ইন্ডিয়া স্রেফ উড়ে যাবে মিচেল স্টার্ক-প্যাট কামিন্সদের আগুনে বোলিংয়ের সামনে, এমনটাই মত ছিল ক্রিকেটবোদ্ধাদের। প্রথম ইনিংসে অবশ্য সে আতঙ্কই তাড়া করছিল ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের। মাত্র ১৫০ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার পরে ভারত পারথ টেস্ট জিততে পারবে, অতি বড় ভক্তও সেটা ভাবতে পারেননি।


কিন্তু অধিনায়ক বুমরাহ আশা ছাড়েননি। প্রথম ইনিংসে অজি পেসারদের পালটা আগুনে বোলিং শুরু করেন সিরাজ-হর্ষিতরা। মাত্র ১০৪ রানে গুটিয়ে দেন অজি ব্যাটিংকে। সেখান থেকেই শুরু হয় ভারতের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। তবে এই টেস্ট জিতলেও তবে তাতেও ফাইনালে যাওয়ার রাস্তা খুব সহজ হয়নি। কারণ এখনও ভারতকে অস্ট্রেলিয়ায় কমপক্ষে তিনটি টেস্টে জিততে হবে। তাহলে অন্য কোনও দলের দিকে না তাকিয়েই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলতে পারে।
সেই কাজটা খুব একটা সহজ হবে না। কিন্তু পারথ অপ্টাস স্টেডিয়ামে বাউন্সি পিচে যেভাবে ভারত খেলেছে, তা সেই ‘অসম্ভব’ কাজটা সম্ভব করতেই পারে ভারত। যে মাঠে আজকের আগে পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া কোনও টেস্ট হারেনি। যশস্বী জয়সওয়াল ও বিরাট কোহলির অনবদ্য ইনিংসের সুবাদে অস্ট্রেলিয়াকে ৫৩৪ রানের টার্গেট দিয়েছিল ভারত।
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ২৩৮ রানে অলআউট হয়। যার ফলে ভারত ২৯৫ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছে। এই জয়ের ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবলেও উন্নতি হল টিম ইন্ডিয়ার।
পারথে বিরাট-বুমরাদের দাদাগিরির ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাদের দেশের মাটিতে দ্বিতীয় সর্বাধিক রানের ব্যবধানে জিতল টিম ইন্ডিয়া। অ্যালেক্স ক্যারি যদি শেষ অবধি লড়ে না যেতেন, তা হলে এই জয়ের ব্যবধান ৩০০-র বেশি হতে পারত। এক ঝলকে দেখে নিন অতীতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অজিদের বিরুদ্ধে ভারতের বড় টেস্ট জয়।











