২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসছে, ততই একের পর এক জল্পনার অবসান ঘটছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে যে ভিসা-অনিশ্চয়তা নিয়ে চর্চা চলছিল, তাতে অবশেষে ইতি টানল ভারত। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিল—খেলা আর রাজনীতি আলাদা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের হস্তক্ষেপে দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।
ভারতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট মানেই ভিসা নিয়ে বাড়তি নজর। যদিও এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান দল ভারতে খেলতে আসছে না, তবু বিভিন্ন দেশের দলে থাকা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত একাধিক ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফ ভিসা সমস্যায় পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত International Cricket Council (ICC) উদ্যোগী হয়ে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির পথে নিয়ে যায়।
আদিল রশিদ ও রেহান আহমেদের ভিসা মিলল
PTI সূত্রে খবর, ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস দলের পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের ভারতীয় ভিসা ইতিমধ্যেই মঞ্জুর হয়েছে। ইংল্যান্ড দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য স্পিনার আদিল রশিদ ও তরুণ লেগ-স্পিনার রেহান আহমেদ-এর পাশাপাশি পেসার সাকিব মাহমুদ-ও ভিসা পেয়েছেন। বিশ্বকাপের জন্য ইংল্যান্ডের পরিকল্পনায় এই তিন জনই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এর আগে England and Wales Cricket Board (ECB) জানিয়েছিল, ভিসা আবেদনে আপত্তি তোলা না হলেও সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। সেই সংশয়ই এবার কেটে গেল।
অন্য দলগুলির ক্ষেত্রেও সবুজ সঙ্কেত
শুধু ইংল্যান্ড নয়, নেদারল্যান্ডস দলের কয়েক জন সদস্য এবং কানাডা দলের স্টাফ সদস্য শাহ সালিম জ়াফর-ও ভারতীয় ভিসার অনুমোদন পেয়েছেন। মোট ৪২ জন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা বিভিন্ন দলের হয়ে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন। তাঁদের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়েছে।
আইসিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা থাকায় ৩১ জানুয়ারির ভিসা ডেডলাইনের আগেই সব প্রক্রিয়া শেষ করতে তৎপর ছিল ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা।
সব মিলিয়ে, ভিসা ইস্যুতে স্পষ্ট বার্তা—খেলার মাঠে কোনও বৈষম্য নয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এই সিদ্ধান্ত যে বিতর্কে জল ঢেলেছে, তা বলাই বাহুল্য।


