ভারত-পাক সীমান্তে চূড়ান্ত প্রস্তুতি! তৈরি হচ্ছে বাঙ্কার, কী আশঙ্কা দিল কেন্দ্র?

অপারেশন সিঁদুরের পর সীমান্তে বাড়ছে সতর্কতা। পাকিস্তানের হামলার আশঙ্কায় জম্মু-কাশ্মীরে তৈরি হচ্ছে ২০০-র বেশি বাঙ্কার। কেন্দ্র বলছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই প্রথম অগ্রাধিকার।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) পর থেকেই উত্তপ্ত ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত (India-Pakistan Border)। পহেলগাঁও হামলার পর কেন্দ্র একচুলও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। সীমান্ত জুড়ে জারি করা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এবার জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসনের উদ্যোগে সীমান্তে তৈরি হচ্ছে একাধিক বাঙ্কার (Bunker) — যুদ্ধকালীন প্রস্তুতির মতোই।

সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ৪০টি বাঙ্কার তৈরি হয়ে গিয়েছে। আরও ১৬২টি নির্মাণাধীন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যেই মোট ২০২টি বাঙ্কার তৈরির কাজ শেষ হবে বলে জানা গিয়েছে। এই বাঙ্কারগুলি মূলত উরি ও বারামুলা সেক্টরের সীমান্তবর্তী এলাকায় তৈরি হচ্ছে, যেখানে পাকিস্তানের মর্টার হামলার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

কেন এত বাঙ্কার তৈরি করা হচ্ছে?
অপারেশন সিঁদুরের পর যে সংঘর্ষ ঘটে, তাতে পাকিস্তানের গোলা বর্ষণের ফলে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। অনেক বাড়িঘর ভেঙে পড়ে, বহু গ্রামবাসী প্রাণহানির আশঙ্কায় ঘর ছাড়তে বাধ্য হন।

এই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নতুন বাঙ্কারগুলি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে পাকিস্তানের দিক থেকে গোলা এলেও কোনও প্রাণহানি বা বড় ক্ষতি না হয়। প্রতিটি বাঙ্কার কংক্রিট, ইস্পাত ও বালু দিয়ে শক্তভাবে তৈরি, যা সরাসরি শেলিং প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে খবর, সীমান্তে স্থলসেনা ও বিএসএফ-এর টহলদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় গ্রামবাসীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হবে এই বাঙ্কারগুলি।

উত্তর কাশ্মীরে নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “পাকিস্তানের দিক থেকে হামলা বা শেলিং চললে এই বাঙ্কারগুলি হবে গ্রামের মানুষের জীবনরক্ষাকারী ঢাল। আমরা চাই, প্রত্যেক গ্রামবাসী নিরাপদ থাকুন।”

পাকিস্তানের উস্কানিমূলক কার্যকলাপ ও পাল্টা প্রস্তুতি
অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একাধিকবার গুলি চালায়। ভারতের পাল্টা জবাবের পর থেকে সীমান্তে টানটান উত্তেজনা বজায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাঙ্কার নির্মাণ সেই উত্তেজনারই ইঙ্গিত, যা ভারতকে প্রতিরক্ষার দিক থেকে আরও শক্তিশালী করছে।

ভারতীয় সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, বাঙ্কার ছাড়াও সীমান্তে নতুন পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, নজরদারি ড্রোন ও নাইট ভিশন সিস্টেম বসানোর কাজও চলছে। এর ফলে সীমান্তে পাকিস্তানি অনুপ্রবেশ বা অস্ত্র পাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর হবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বাঙ্কার নির্মাণের অর্থনৈতিক দিক
প্রতিটি বাঙ্কার তৈরিতে প্রায় ১০–১২ লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে। কেন্দ্র এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করেছে। বাঙ্কার নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সীমান্ত উন্নয়ন বোর্ডকে (Border Area Development Board)।

সীমান্তে বাড়ছে কড়া নজরদারি
সেনা আধিকারিকদের মতে, “সীমান্তে প্রতিটি গতিবিধি এখন নজরে রাখা হচ্ছে। পাকিস্তান যদি কোনও উস্কানি দেয়, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে চিহ্নিত হবে এবং যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।”

জম্মু-কাশ্মীরে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির মানুষ এই পদক্ষেপে স্বস্তি পেয়েছেন। এক গ্রামবাসী বলেন, “প্রতিদিন গুলির আওয়াজে আতঙ্কে থাকতাম। এখন বাঙ্কার থাকলে অন্তত বাঁচার জায়গা পাব।”

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে এই মুহূর্তে নিরাপত্তা বলয় আরও দৃঢ়। প্রশাসনের একমাত্র লক্ষ্য — যে কোনও পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রাণরক্ষা নিশ্চিত করা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত