আর্মেনিয়াকে Sukhoi-30 MKI যুদ্ধবিমান দিচ্ছে ভারত, শত্রুর শত্রুকে বড় উপহার মোদির!

২৭,৫০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আর্মেনিয়াকে Sukhoi-30 MKI যুদ্ধবিমান দেবে ভারত। দক্ষিণ ককেশাসে আজ়ারবাইজানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি বাড়াতে বড় পদক্ষেপ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

Sukhoi-30 যুদ্ধবিমান সরবরাহ করতে আর্মেনিয়ার সঙ্গে প্রায় ২৭,৫০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা চুক্তি করল ভারত। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি উন্নতমানের Sukhoi-30 MKI যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে। দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝেই ভারতের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও সামরিক বার্তা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, প্রায় ৩০০ কোটি ডলার (প্রায় সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা) মূল্যের এই চুক্তির আওতায় আর্মেনিয়াকে ১০-১২টি Sukhoi-30 MKI যুদ্ধবিমান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম শক্তিশালী এই যুদ্ধবিমান রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি এবং বহু উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থায় সজ্জিত।

এই চুক্তির আওতায় শুধু যুদ্ধবিমানই নয়, গাইডেড বোমা, এয়ার-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জামও আর্মেনিয়াকে সরবরাহ করবে ভারত। এছাড়াও ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘উত্তম AESA রাডার’ দেওয়ার বিষয়টিও দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আর্মেনিয়ার বায়ুসেনার হাতে ইতিমধ্যেই কিছু Su-30SM যুদ্ধবিমান রয়েছে। নতুন করে ভারত থেকে পাওয়া Su-30 MKI সেই প্রযুক্তির আরও উন্নত সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত।

আর্মেনিয়াকে Sukhoi-30 MKI যুদ্ধবিমান দিচ্ছে ভারত, শত্রুর শত্রুকে বড় উপহার মোদির!

আর্মেনিয়ার সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়েছে। এর আগে ভারত থেকে ইতিমধ্যেই পিনাকা মাল্টি-ব্যারেল রকেট লঞ্চার, আকাশ-১এস এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, ড্রোন প্রতিরোধী অস্ত্র এবং ১৫৫ মিমি অ্যাডভান্সড টোড আর্টিলারি গান সিস্টেম (ATAGS) কিনেছে আর্মেনিয়া।

দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে আর্মেনিয়া ও আজ়ারবাইজানের সংঘাত বহু দশকের পুরনো। দু’দেশই একসময় সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। স্বাধীনতার পরে ১৯৯১ সালে নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।

২০২০ সালের যুদ্ধে প্রায় ৬,৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মহলে অভিযোগ ওঠে, খ্রিস্টান অধ্যুষিত নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চলে আজ়ারবাইজানের বাহিনী গণহত্যা চালিয়েছে। যদিও পরে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়েছিল।

তবে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়া তখন ব্যস্ত থাকায় আগের মতো সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতা করতে পারেনি।

এই সুযোগে পাকিস্তান ও তুরস্কের সমর্থনে আজ়ারবাইজান সেনা নাগোর্নো-কারাবাখের অধিকাংশ এলাকা দখল করে নেয়। ফলে লক্ষাধিক আর্মেনীয় খ্রিস্টান নাগরিক ওই অঞ্চল ছেড়ে আর্মেনিয়ায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আজ়ারবাইজানের সামরিক শক্তির মোকাবিলায় ভারতীয় অস্ত্রের উপরেই ভরসা রাখছে আর্মেনিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন যুদ্ধবিমান চুক্তি দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের কৌশলগত সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত