নতুন দল গড়েই মুর্শিদাবাদে তৃণমূলকে ‘শূন্য’ করার হুঙ্কার হুমায়ুন কবীরের

‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রতিষ্ঠা দিবসেই ৯ প্রার্থী ঘোষণা; মমতা–অভিষেককে আক্রমণ, ভোটে বড় চমকের বার্তা সাসপেন্ড হওয়া বিধায়কের

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিধানসভা ভোট এখনও কয়েক মাস দূরে, কিন্তু তার আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ালেন হুমায়ুন কবীর। সোমবার নিজের নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেইউপি)-র প্রতিষ্ঠা দিবসেই আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তিনি। হুমায়ুনের দাবি, “আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদে তৃণমূলকে শূন্যে নামিয়ে আনব।”

দল ঘোষণার মঞ্চ থেকেই তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে তীব্র আক্রমণ করেন ভরতপুরের বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, দলীয় শৃঙ্খলার নামে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফল।

৯ প্রার্থীর নাম ঘোষণা, নিজে লড়বেন দুই কেন্দ্রে

প্রথম দফায় হুমায়ুন মোট ৯টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। নিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ভরতপুর এবং রেজিনগর—এই দুই কেন্দ্র থেকে। মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে জেইউপি প্রার্থী করা হয়েছে মনীষা পাণ্ডেকে, যিনি আগে তৃণমূলে ছিলেন। রানিনগরে প্রার্থী হচ্ছেন আর এক হুমায়ুন কবীর, যিনি ২০১৬ সালে তৃণমূলের টিকিটে লড়ে পরাজিত হয়েছিলেন।

এ ছাড়া পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর গ্রামীণ থেকে ইব্রাহিম হাজি, মালদহের বৈষ্ণবনগর থেকে মুস্তারা বিবি, ভগবানগোলা থেকে ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবীর, দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরে ওয়েদুল রহমান এবং কলকাতার বালিগঞ্জ কেন্দ্রে নিশা চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করা হয়েছে।

প্রাক্তন পুলিশকর্মীর যোগদান, তৃণমূলকে কটাক্ষ

জেইউপি-তে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন পুলিশকর্মী সিরাজুল হক মণ্ডল। তাঁর দাবি, এক সময় মুখ্যমন্ত্রীর প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে চাকরি হারিয়েছিলেন। ক্ষমতার পালাবদলের পর চাকরি ফেরত না পেয়ে এখন ফেরিওয়ালার কাজ করেন। তাঁকে বারাসত কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করার প্রস্তাব দিয়েছেন হুমায়ুন।

তৃণমূল ও বিজেপি—দুই দলকেই নিশানা

হুমায়ুনের বক্তব্য, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদে বিজেপিও আসন বাড়াতে পারে, কিন্তু তৃণমূলের আর কোনও সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে কটাক্ষ করে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘ইউজ অ্যান্ড থ্রো’ রাজনীতির অভিযোগ তোলেন।

তাঁর দাবি, আগামী নির্বাচনে জেইউপি ১০০টি আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করবে। প্রার্থীদের মধ্যে ৭০ শতাংশ মুসলিম এবং ৩০ শতাংশ হিন্দু থাকবেন। মুর্শিদাবাদের তৃণমূল বিধায়কদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগও তোলেন তিনি।

হুমায়ুন আরও জানান, আগামী ৪ জানুয়ারি ডোমকল এবং ৫ জানুয়ারি হরিহরপাড়ায় দলের পরবর্তী সভা হবে। তাঁর দাবি, তৃণমূল ও আইএসএফ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী-সমর্থক জেইউপি-তে যোগ দিতে চলেছেন।

সব মিলিয়ে, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই নতুন দল গড়ে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে বড়সড় ঝাঁকুনি দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন হুমায়ুন কবীর।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন