বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দাবি করলেন, গত বছরের জুলাই–অগস্টের জনবিক্ষোভে সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোয় হাসিনা সরকারের পতন দ্রুত ঘটে। বুধবার মিরপুর সেনানিবাসে ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের কনভোকেশনে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী “সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত” নিয়েছিল এবং সে কারণেই তিনি বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করছেন।
এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৪টি দেশের ৩১১ জন তরুণ সামরিক অফিসারকে সনদ প্রদান করা হয়। ভারত, চীন, পাকিস্তান, তুরস্কসহ একাধিক দেশের অফিসার এ বছর প্রশিক্ষণে অংশ নেন।
ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের চোখে সেনাবাহিনী ‘পোষা কুকুর’—বিক্ষোভে বাড়ছে বিদ্বেষ
ইউনূস সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা করলেও, তাঁর সমর্থক বলে পরিচিত ছাত্র-যুব গোষ্ঠীর একাংশ সেনাবাহিনীর প্রতি তীব্র বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। সোমবার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার আগে কয়েকজন যুবক ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বাড়ির ধ্বংসাবশেষ ভাঙতে গেলে সেনা ও পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তখনই ছাত্ররা সেনা অফিসারদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে অশ্রাব্য গালিগালাজ শুরু করে।
শাহবাগের সুশীল এলাকায় তো ইউনূস-ঘনিষ্ঠ আমার বাংলা (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে প্রকাশ্যে সেনানিবাস উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেও দেখা যায়। বিক্ষোভে এই চরমপন্থী আক্রমণাত্মক ভাষা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।
সেনাবাহিনী পাশে থাকায় দ্রুত পতন হাসিনা সরকারের, সাফ জানালেন ইউনূস
বিজয় দিবসেও বাতিল কুচকাওয়াজ—দুই বছর ধরে নেই ঐতিহ্যবাহী আনুষ্ঠানিকতা
বাংলাদেশে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে ঐতিহ্যগতভাবে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সশস্ত্র বাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু গত বছর ২০২৪ সালে এই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছিল। সেই রীতি বজায় রেখেই ২০২৫ সালেও কুচকাওয়াজ হবে না বলে জানালেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী।
বুধবার সচিবালয়ে বিজয় দিবসের নিরাপত্তা বৈঠক শেষে তিনি বলেন, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়েও কোনও কুচকাওয়াজ হবে না। শিশু-কিশোরদের শরীরচর্চার প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও বাতিলই থাকছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ছাত্র আন্দোলনের সহিংস আচরণ এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ‘অপরিহার্য’, বললেন ইউনূস
মিরপুর সেনানিবাসে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইউনূস আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে সরাসরি সেনাবাহিনীর সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি জানান, বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজন করতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “দেশবাসীর কাঙ্ক্ষিত নির্বাচনকে সত্যিকারের উৎসবে পরিণত করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা একান্তভাবে প্রয়োজন।”
এই বক্তব্য আবারও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, হাসিনা সরকারের পতন-এর পর নতুন রাজনৈতিক কাঠামো নির্মাণে সেনাবাহিনীর ভূমিকা আগের চেয়ে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: সেনা, ছাত্র আন্দোলন এবং সরকারের পরিবর্তন
বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতন-এর পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলে গেছে। সেনাবাহিনীর সমর্থন বিক্ষোভকারীদের পক্ষে গেলেও এখন সেই একই বিক্ষোভ শিবিরের একাংশ সেনাকে সরাসরি অপমান করছে। এতে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর ভিতরে চাপা উত্তেজনা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।
ইউনূসের প্রশংসা এবং ছাত্রদের আক্রমণাত্মক বক্তব্য—এই দুই বৈপরীত্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন জটিলতার ইঙ্গিত দেয়। এরই মাঝে বিজয় দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানের কুচকাওয়াজ বাতিল হওয়া দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকেই সামনে এনে দেয়।







