শুধু রেজিস্ট্রি বা নথিভুক্তি করলেই হিন্দু বিবাহ আইনের অধীনে কোনও বিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হয়ে যায় না। গুজরাট হাই কোর্ট (Gujarat High Court) এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে, হিন্দু বিবাহের ক্ষেত্রে প্রচলিত ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি পালন করাই আইনি বৈধতার অন্যতম অপরিহার্য শর্ত। আদালতের মতে, কেবলমাত্র নথিতে স্বাক্ষর বা মালাবদল করলেই বৈধ বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে বলে ধরা যাবে না।
এই মামলার রায়ে বিচারপতি ইলেশ ভোরা (Ilesh Vora) এবং বিচারপতি টি বচ্চনি (T. Bacchani)-র ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে যে, হিন্দু বিবাহ আইন (Hindu Marriage Act, 1955)-এর ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রচলিত বিবাহরীতি অনুসরণ করেই বিয়ে সম্পন্ন হতে হবে। আদালত বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, অনেক ক্ষেত্রে সপ্তপদী (Saptapadi)-সহ অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানই বিবাহের আইনি বৈধতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রায়ে আদালত আরও বলেছে, হিন্দু বিবাহ শুধুমাত্র একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়; এটি একটি ধর্মীয় সংস্কার এবং আইনগতভাবে স্বীকৃত সম্পর্ক। তাই বিবাহকে কেবল উৎসব, ভোজ বা আনুষ্ঠানিক আয়োজন হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং পারস্পরিক সম্মান, সমতা, দায়িত্ব এবং আজীবন একসঙ্গে থাকার অঙ্গীকারই বিবাহ প্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তি।
বিচারপতিদের মতে, অগ্নিসাক্ষী রেখে প্রতিজ্ঞা করা, সপ্তপদী পালন করা এবং প্রচলিত ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করার মধ্য দিয়েই বিবাহের আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও আইনি স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ধরনের প্রয়োজনীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন না হলে হিন্দু বিবাহ আইনের অধীনে সেই বিয়ের বৈধতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
এই পর্যবেক্ষণ একটি নির্দিষ্ট মামলার শুনানির সময় করা হয়েছে। মামলাটি এক ব্রিটেনপ্রবাসী ভারতীয় যুবকের করা আবেদনকে কেন্দ্র করে। তাঁর অভিযোগ ছিল, এক মহিলা প্রতারণার মাধ্যমে তাঁর সম্মতি ছাড়াই বিবাহ সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। আবেদনকারীর দাবি, তাঁদের মধ্যে কখনও ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ে হয়নি এবং তাঁরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাসও করেননি।
আদালতে ওই মহিলাও স্বীকার করেন যে, তাঁদের মধ্যে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে বিবাহ সম্পন্ন হয়নি। সেই প্রেক্ষিতে আদালত জানায়, যেহেতু হিন্দু বিবাহের অপরিহার্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়নি, তাই ওই ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহের মৌলিক শর্তই পূরণ হয়নি।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পর্যবেক্ষণ মামলার নির্দিষ্ট তথ্য ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে করা হয়েছে। অন্য কোনও মামলায় ভিন্ন তথ্য বা ভিন্ন ধর্মীয় প্রথা থাকলে আদালতের সিদ্ধান্তও আলাদা হতে পারে। ফলে প্রতিটি মামলার আইনি অবস্থান তার নিজস্ব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।






