গুজরাটে চলন্ত অ্যাম্বুল্যান্সে ভয়াবহ আগুন লেগে এক সদ্যোজাত-সহ চার জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে আরবল্লি জেলার মোদাসা-ধানসুরা রাজ্য সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল বদল করার পথে এমন দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে। ভয়াবহ এই ঘটনা এখন গোটা গুজরাটে আলোড়ন ফেলেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে রয়েছে একদিন আগে জন্মানো অসুস্থ শিশু, চিকিৎসক শান্তিলাল রেন্টিয়া, নার্স বুড়িবেন মানাত (২৩) এবং শিশুটির বাবা জিগনেস মোচি (৩৮)। আহত হয়েছেন অ্যাম্বুল্যান্সচালক অঙ্কিত ঠাকুর এবং শিশুটির দুই আত্মীয়। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানা যাচ্ছে, রাজ্যের একটি সরকারি হাসপাতালে জন্মানোর পর থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ ছিল। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুল্যান্সে করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। কিন্তু যাত্রাপথেই ঘটে চূড়ান্ত বিপত্তি—চলন্ত অ্যাম্বুল্যান্সেই আগুন ধরে যায়।
চলন্ত অ্যাম্বুল্যান্সে ভয়াবহ আগুন, সদ্যোজাত-সহ ৪ জনের মৃত্যু গুজরাটে
এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পেট্রোল পাম্পের কাছে পৌঁছতেই অ্যাম্বুল্যান্সের পেছনের দিক থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হয়, তারপর মুহূর্তের মধ্যে ভয়ঙ্কর আগুনে তা গ্রাস হয়ে যায়। আগুনের তীব্রতায় ভেতরে থাকা রোগী, ডাক্তার ও নার্স কেউই বেরোতে পারেননি। কিছু মুহূর্তেই সবকিছু ছাই হয়ে যায়।
খবর পেয়ে দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও, ততক্ষণে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে অ্যাম্বুল্যান্সের অর্ধেক। দমকল ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা—আগুনের উৎস অ্যাম্বুল্যান্সের ইঞ্জিন বা অক্সিজেন সিলিন্ডার হতে পারে। তবে স্পষ্ট তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।



আরবল্লির পুলিশ সুপার মনোহর সিং জাদেজা বলেন,
“আগুন কীভাবে লাগল তা এখনই বলা যাচ্ছে না। ফরেন্সিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সমস্ত নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, গাফিলতি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি—দুটোই সমানভাবে বিবেচনা করে তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে, হাসপাতাল বদলের সময়ে অ্যাম্বুল্যান্সে এভাবে আগুন লাগার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং অ্যাম্বুল্যান্স নিরাপত্তা নিয়ে। চিকিৎসকরা বলছেন, গুজরাটসহ বহু রাজ্যে বেসরকারি ও সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সগুলিতে নিয়মিত প্রযুক্তিগত পরীক্ষা হয় না। অক্সিজেন সিলিন্ডার সংযোগ, ইঞ্জিন সার্ভিসিং থেকে শুরু করে তারের শর্ট সার্কিট—একাধিক সমস্যা থেকে যেতে পারে।
স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ, অ্যাম্বুল্যান্সটি বেশ পুরনো ছিল। যান্ত্রিক দিক থেকে ত্রুটি থাকার সম্ভাবনা তাঁরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তাঁদের দাবি—সরকারের উচিত অবিলম্বে অ্যাম্বুল্যান্স নিরাপত্তা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবার ভেঙে পড়েছে। সদ্যোজাত শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টাই যে শেষ মুহূর্তে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিল, সেই বেদনা আরও গভীর। শিশুর আত্মীয়রা জানান,
“আমরা ভেবেছিলাম বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে ও বাঁচবে। ভাবতেই পারিনি যে যাত্রাপথেই আগুন লেগে যাবে।”
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দফতরকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে—রোগী পরিবহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট কি না? অক্সিজেন সিলিন্ডার ও চিকিৎসা সামগ্রী বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্সগুলিতে কেন বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে?
তদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত পরিষ্কার না হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে, ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা ছাড়াই অ্যাম্বুল্যান্স রাস্তায় নামানোই বড় বিপদ। সারা দেশে অ্যাম্বুল্যান্স নিরাপত্তা মানদণ্ড এখন নতুন করে খতিয়ে দেখা জরুরি।
সব মিলিয়ে, গুজরাটের এই আগুনে মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নিরাপত্তা ঘাটতির একটি বড় সতর্কবার্তা। এখন নজর ফরেন্সিক রিপোর্ট ও সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপে।








