ভারতে গুগল (Google)-এর সবচেয়ে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা হল মঙ্গলবার। মার্কিন প্রযুক্তি দৈত্য সংস্থা এবার আদানি গোষ্ঠী (Adani Group)-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি করতে চলেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ AI Data Centre, যার স্থান অন্ধ্রপ্রদেশের বন্দর শহর বিশাখাপত্তনম (Visakhapatnam)।
এই প্রকল্পে গুগলের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১.৩৩ লক্ষ কোটি টাকা (১৫ বিলিয়ন ডলার), যা পূর্ববর্তী ঘোষণার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এই বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে ভারতকে বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম মেধা বা Artificial Intelligence (AI)-এর মানচিত্রে আরও উজ্জ্বলভাবে স্থাপন করার পরিকল্পনা নিচ্ছে সংস্থাটি।
অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের সঙ্গে মঙ্গলবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষর করেছে গুগল। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এছাড়া, গুগল ক্লাউড-এর সিইও থমাস কুরিয়ান (Thomas Kurian) নিজেও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।
গুগল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশাখাপত্তনমের এই AI Data Centre হবে আমেরিকার বাইরে সংস্থার সবচেয়ে বড় ডেটা অবকাঠামো প্রকল্প। এই কেন্দ্রের তথ্যধারণ ক্ষমতা থাকবে প্রায় এক গিগাওয়াট, যা ভারতে তৈরি হওয়া সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর তথ্যকেন্দ্রগুলির মধ্যে অন্যতম হবে।
গুগল সিইও সুন্দর পিচাই (Sundar Pichai) মঙ্গলবার ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সঙ্গে। তাঁরা দু’জনেই ভারতের ডিজিটাল ইকোসিস্টেম এবং এই বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। সরকারি সূত্রে খবর, সন্ধ্যায় দিল্লিতে মোদী ও চন্দ্রবাবু নায়ডুর বৈঠকে আরও বিস্তারিত রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।
অন্ধ্রপ্রদেশের আইটি মন্ত্রী নারা লোকেশ বলেন, “বর্তমান যুগে তথ্যই সবচেয়ে দামী সম্পদ। এই AI Data Centre অন্ধ্রপ্রদেশকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিনিয়োগ শুধু দক্ষিণ ভারতে নয়, গোটা দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এক নতুন যুগের সূচনা করবে। বেঙ্গালুরু, চেন্নাই ও পুণের মতো শহরগুলির পাশাপাশি এবার বিশাখাপত্তনমও ভারতীয় টেক ম্যাপে (Tech Map) বিশেষ জায়গা পাবে।
গুগলের এই AI Data Centre শুধু ডেটা প্রসেসিং ও ক্লাউড সার্ভিস নয়, বরং উন্নত Machine Learning, Generative AI এবং Sustainable Green Technology-তেও এক নতুন অধ্যায় খুলবে।
ভারতের জন্য এই প্রকল্প কেবল অর্থনৈতিক নয়, ভবিষ্যতের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব (Digital Sovereignty) গঠনের দিকেও এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



