রাজ্যে লাগাতার বৃষ্টির জেরে বানভাসি দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। এই পরিস্থিতে ক্রমেই জল ছেড়ে চলেছে ডিভিসি। লাগাতার জল ছাড়ার কারণে নদীর জলস্তর বাড়তে থাকে। ফলে বেশ কিছু নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া, বীরভূম সহ দুই মেদিনীপুরের বেশ কয়েকটি অঞ্চল। জলের তলায় একাধিক গ্রাম। তবে বর্তমানে সবথেকে খারাপ অবস্থা হুগলীর খানাকুলের। ঘর ছাড়া বহু মানুষ। এই পরিস্থিতিতে ত্রাণ নিয়ে রাজ্যের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন দুর্গতরা। অভিযোগ ঘরবাড়ি ভেসে গিয়েছে তবুও ত্রিপল নেই খাবার নেই ও থাকার জন্য ঘর নেই এই পরিস্থিতিতে এক দুর্গতর দাবি গলাটা টিপে মেরে দিয়ে যান আমাদের।
নদী বাঁধ ভেঙে জলের তলায় হাসপাতাল থেকে বিডিও অফিস ও স্কুল কলেজের একাংশ। জল ডুকছে একাধিক ত্রাণ শিবিরে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার হুগলির বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানেই তার ওপর খুব উগরে দেন বেশ কিছু দুর্গতরা। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর দাবি এই পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ দায়ী কেন্দ্র সরকার। অপরিকল্পিতভাবে লাগাতার জল ছাড়ছে ডিভিসি। যা একপ্রকার ‘ম্যানমেড’ বন্যা হিসেবেই ব্যাখ্যা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিগত দু’দিন ধরে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার হুগলি ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখার পর বৃহস্পতিবার তিনি চলে এসেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া, রাতুলিয়ায়। এখানে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনের পর ডিভিসি-র বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, “মানুষকে এভাবে ডোবালে ডিভিসি-র সঙ্গে আর কোনও সম্পর্ক রাখা হবে না। ঝাড়খন্ড থেকে জল ছাড়া হয়েছে। কেন কেন্দ্রীয় সরকার, ডিভিসি ড্রেজিং করে না? ডিভিসি-র জলে কেন বাংলা ডুকবে? আমরা জানতে চাই। আমরা কৈফিয়ৎ চাই।” শুধু তাই নয়, আগামী দিনে এই সমস্যা যদি চলতেই থাকে তাহলে বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত করা হবে বলেও কার্যত হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল নেত্রী।
একই সঙ্গে আজ সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “আর্ত মানুষের পাশে আজীবন থাকার প্রতিজ্ঞা নিয়েই রাজনীতির ময়দানে পা রেখেছিলাম। আজ আমার রাজ্যবাসীর একাংশ বন্যা পরিস্থিতির কারণে বিপদের সম্মুখীন। আমাদের প্রশাসন দিবারাত্রি তাঁদের পাশে আছে। যাঁদের শস্যের ক্ষতি হয়েছে, তাঁরা শস্য বীমার টাকা পাবেন। এই বছর কোনো আলোচনা ব্যতীত প্রায় পাঁচ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে, যার জন্য দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এটি একটি ‘ম্যান ম্যাড বন্যা’ ছাড়া আর কিছুই নয়।”




