নজরবন্দি ব্যুরোঃ হাড়হিম ঠান্ডায় জল কামানের বাধা পেরিয়ে দিল্লির উদ্দেশ্যে কৃষকরা। প্রবল ঠান্ডার মধ্যেই হরিয়ানার সোনপতে রাত ১১টার দিকে কনকনে ঠান্ডায় কৃষকদের উপর জলকামান চালায় পুলিশ। তা সত্ত্বেও পুলিশি ব্যারিকেড, কনকনে ঠান্ডায় হিমশীতল জল কোনও কিছুই রুখতে পারেনি তাঁদের। হরিয়ানা পেরিয়ে আজ দিল্লির পথে হাজার হাজার কৃষক। কিন্তু তাঁরা যাতে কোনওভাবেই সীমানা পেরিয়ে রাজধানীর বুকে প্রবেশ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে চেষ্টার কোনও কসুর ছাড়ছে না প্রশাসন।
আরও পড়ুনঃ প্রয়াত ফুটবলের রাজপুত্র! মারাদোনার সেই ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সি তুলে রাখার প্রস্তাব।


জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই হরিয়ানার সোনপতে পৌঁছে গিয়েছিল ২০০-র বেশি কৃষকের একটি দল। রাস্তার ওপর দাঁড়িয়েই তাঁরা স্লোগান দিচ্ছিল। পুলিশও ব্যারিকেড বানিয়ে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে তৈরি ছিল। এরপর রাত ৯টার দিকে সেখানকার পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়। কৃষকরা পুলিশকে ব্যারিকেড সরিয়ে নিতে অনুরোধ করে। কিন্তু কৃষকরা পিছিয়ে যেতে নারাজ। সেইসময়ই হারহিম করা ঠান্ডায় প্রতিবাদরত কৃষকদের উপর জলকামান ছোড়ে হরিয়ানা পুলিশ।
এদিকে বৃহস্পতিবার সারা দিন সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করেও কৃষকদের আটকাতে পুরোপুরি সফল হয়নি হরিয়ানার বিজেপি সরকার। সংযুক্ত কিসান মোর্চা এবং অল ইন্ডিয়া কিসান সংঘর্ষ কোঅর্ডিনেশন কমিটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, দিল্লি ঢোকার জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ হাজার কৃষক পৌঁছে গিয়েছে দিল্লি-হরিয়ানা সীমানার বিভিন্ন এলাকায়। শুক্রবার দিল্লি ঢোকার জন্য পুরোমাত্রায় তৈরি তাঁরা। এদিকে বিক্ষোভরত কৃষকদের দিল্লিতে ঢোকা আটকাতে তৈরি রয়েছে প্রশাসন।
বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের দিল্লি ঢোকার আর্জি করোনা অতিমারির দোহাই দিয়ে ইতিমধ্যেই খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। দিল্লির পুলিশ কমিশনার এস এন শ্রীবাস্তব বলেছেন, “কোভিড-১৯ নির্দেশিকার জন্য রাজনৈতিক সমাবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়। আমরা অনুরোধ খারিজ করেছি। দিল্লি সীমান্তে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জোর করে ঢোকার চেষ্টা বাধা দেওয়া হবে।’’ এরই অঙ্গ হিসাবে ২৪ নম্বর জাতীয় সড়ক, চিল্লা সীমান্ত, টিগরি সীমান্ত, বাহাদুরগড় সীমান্ত, ফরিদাবাদ সীমান্ত, কালিন্দী সীমান্ত, সিংঘু সীমান্তে ব্যারিকেড গড়ে দিল্লি পুলিশ।


হারহিম ঠান্ডায় জল কামানের বাধা পেরিয়ে দিল্লির উদ্দেশ্যে কৃষকরা। প্রসঙ্গত, বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকরা ‘দিল্লি চলো’ অভিযানের ডাক দিয়েছেন। গতকালই এই ‘দিল্লি চলো’ অভিযানে যোগ দিতে পাঞ্জাব থেকে হাজার হাজার কৃষক রওনা দিয়েছেন হরিয়ানা পেরিয়ে দিল্লির উদ্দেশে। মাঝে হরিয়ানা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটকানোর সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে। ব্যারিকেড দিয়ে, জলকামান ব্যবহার করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু অদম্য জেদ নিয়ে কৃষকরা সেই বাধা পেরিয়ে এখন দিল্লি সীমান্তে। পুলিশের বাধাকে তোয়াক্কা না করে বিক্ষোভরত কৃষকরা কী ভাবে দিল্লি ঢোকেন তার দিকে আজ তাকিয়ে গোটা দেশ।








