রাজ্যে ওষুধের বাজারে ভয় ধরানো সত্য সামনে এল। সরকারি পরীক্ষাগারে নমুনা যাচাই করে দেখা গিয়েছে, ৪২টি জীবনদায়ী ওষুধ সঠিক মানের নয় বা কার্যত নিম্নমানের, যার মধ্যে রয়েছে ৩টি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের অ্যান্টিবায়োটিক। ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন রাজ্যের সরকারি ড্রাগ ল্যাবে করা পরীক্ষায় এই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টি সামনে আসতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ফুসফুসের সংক্রমণ, সাইনাস, টনসিল এবং নাক–কান–গলার ইনফেকশনে বহুল ব্যবহৃত অ্যামক্সিসিলিন ৫০০ মিগ্রা ও ক্ল্যাভুলানিক অ্যাসিড ১২৫ মিগ্রা—এই সংমিশ্রণের অ্যান্টিবায়োটিকেও জালের হদিস মিলেছে। চিকিৎসকেরা যেটিকে সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য বলে নিয়মিত লিখে থাকেন, সেই ওষুধই পরীক্ষায় মানহীন বলে ধরা পড়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এছাড়াও পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ, তীব্র বুকে যন্ত্রণা প্রশমনের ওষুধ, রক্তে কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ এবং গ্যাস, বুকজ্বালা ও অম্বলের একাধিক ওষুধ। রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, জাল ও নিম্নমানের ওষুধের রমরমা রুখতে গত বছর কড়া পদক্ষেপ নেয় Central Drugs Standard Control Organisation (CDSCO)। সাধারণ মানুষ যাতে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে QR কোড-সহ টোল-ফ্রি নম্বর।
জাল ওষুধ সেবনে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলেও কোথায় অভিযোগ জানাবেন—এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্তি ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। সেই সমস্যার সমাধানেই CDSCO চালু করেছে টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৮০০ ১৮০ ৩০২৪। এই নম্বরে ফোন করে বা QR কোড স্ক্যান করে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে।
এছাড়া সব রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোল দফতরকে চিঠি দিয়ে ওষুধের দোকানে এই টোল-ফ্রি নম্বরের পোস্টার বাধ্যতামূলক ভাবে টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—জাল ও নিম্নমানের ওষুধের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা এবং মানুষের সচেতনতা বাড়ানো।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ওষুধ কেনার সময় অবশ্যই প্যাকেটের ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনকারী সংস্থা, মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ খেয়াল করতে হবে। সন্দেহ হলেই সংশ্লিষ্ট ওষুধ সেবন বন্ধ করে দ্রুত অভিযোগ জানানো জরুরি।



