বহুতল আবাসনে পৃথক বুথের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল কমিশন, আপত্তি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীও

জেলার রিপোর্ট না আসা, রাজনৈতিক অনাগ্রহ ও আবাসনগুলির নীরব প্রতিক্রিয়ার জেরে বহুতল আবাসনে ভোটকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা স্থগিত করল নির্বাচন কমিশন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বহুতল আবাসনগুলির ভিতরে পৃথক ভোটকেন্দ্র স্থাপনের যে প্রস্তাব নির্বাচন কমিশন করেছিল, অবশেষে সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এল কমিশন। শহরাঞ্চলের ভোটারদের সুবিধা বাড়াতে এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি লক্ষ্যে পরিকল্পনাটি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জেলা রিপোর্টের অভাব, রাজনৈতিক অনাগ্রহ এবং আবাসনগুলির নীরব প্রতিক্রিয়া—এই তিন কারণেই উদ্যোগটি আর এগোলো না।

কমিশন জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত আবাসন-ভিত্তিক বুথ তৈরির বিষয়ে মাত্র দু’টি জেলা রিপোর্ট জমা পড়েছে। কমিশন যে নির্দেশ দিয়েছিল, তার ভিত্তিতে কয়েকশো আবাসন থেকে তথ্য আসার কথা থাকলেও বাস্তবে সাড়া প্রায় নেই। ফলে নির্বাচন কমিশন আপাতত এই পরিকল্পনা স্থগিত করেছে।

গত মাসে এসআইআর চলাকালীন এই সিদ্ধান্ত নিয়েই রাজনীতিতে তোলপাড় হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পরপর দুটি চিঠি লিখে আবাসনে বুথ তৈরির বিরোধিতা করেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল—“বুথ তো সবসময় সরকারি বা আধা-সরকারি জায়গায় হয়। আবাসনের ভিতরে বুথ তৈরি কী ভাবে সম্ভব?”
মমতার চিঠির পর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের।

এই অবস্থায় কমিশনের পিছিয়ে আসাকে রাজনৈতিক তর্ক-বির্তক আরও স্পষ্ট করছে। শহরাঞ্চলের বহুতলে ৩০০-র বেশি ভোটার থাকলে সেখানে বুথ তৈরির নির্দেশ হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল—বাসিন্দাদের ভোট দিতে বাইরে বেরোতে না হওয়া, নিরাপত্তা বৃদ্ধি, এবং ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো। কিন্তু পরিকল্পনাটি নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়।

তৃণমূল শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধী। কলকাতার বিভিন্ন আবাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে বৈঠক করেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। মুখ্যমন্ত্রীও ফোনে মতামত জানিয়েছেন সেখানে। তৃণমূলের বক্তব্য—এটি ভোটদানে বৈষম্য তৈরি করতে পারে। বিজেপি সমর্থন জানিয়েছিল কমিশনের পরিকল্পনাকে। কিন্তু রাজনৈতিক সমর্থন থাকা সত্ত্বেও আবাসনগুলির তরফে বাস্তবিক আগ্রহ দেখা যায়নি।

ডিইওদের রিপোর্ট না পাওয়া, আবাসনগুলির অনাগ্রহ এবং কখনও কখনও নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক জটিলতার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে কমিশন বাধ্য হয় সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে।

এখন প্রশ্ন—২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেবে? শহরাঞ্চলে ভোটদানের সুবিধা বাড়াতে অন্য কোনও বিকল্প ব্যবস্থা কি আনা হবে? আপাতত এই প্রশ্নে নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত