ভারতের প্রাচীনতম ফুটবল প্রতিযোগিতা Durand Cup 2025-এ নতুন ইতিহাস গড়ল ডায়মন্ড হারবার FC। বুধবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইস্টবেঙ্গলকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য ফাইনালে পৌঁছে গেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্লাব। এই জয়ের মাধ্যমে কলকাতা ময়দানের নতুন শক্তি নিজেদের অস্তিত্ব স্পষ্ট করে দিল দেশের ফুটবলে।
প্রথমার্ধে ম্যাচ ছিল একেবারেই সমানে-সমান। শুরুতেই সুযোগ তৈরি করেছিল ডায়মন্ড হারবার। স্যামুয়েলের শট পোস্টে না লাগলে হয়তো দ্রুত এগিয়ে যেত দলটি। অপরদিকে, অস্কার ব্রুজোর ছেলেরা মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করে একের পর এক আক্রমণে ওঠে। আনোয়ার আলি ও সিবলের দূরপাল্লার শটে রক্ষণে চাপ বাড়ছিল ডায়মন্ড হারবারের উপর। তবে লাল-হলুদ ব্রিগেড যতই আক্রমণে উঠুক, তাদের প্রতিটি আক্রমণ সামলে নিচ্ছিল মিরশাদ।
ডুরান্ড কাপে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে ফাইনালে অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার এফসি

দ্বিতীয়ার্ধেই ম্যাচের আসল নাটকীয়তা শুরু হয়। ইস্টবেঙ্গল একের পর এক সহজ সুযোগ নষ্ট করে। দিয়ামানতাকোস ও বিপিন সিংহ বারবার ব্যর্থ হন মিরশাদকে পরাস্ত করতে। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ডায়মন্ড হারবারকে এগিয়ে দেন মিকেল কোর্তাজ়া। ফ্রিকিক থেকে বক্সে ঢোকা বল ব্যাক ভলিতে জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। তবে মিনিটখানেক পরেই আনোয়ার আলির দুরন্ত দূরপাল্লার শটে সমতায় ফেরে ইস্টবেঙ্গল।
কিন্তু লাল-হলুদের গোল খাওয়ার প্রবণতা আবারও ভোগাল তাদের। ৮৩ মিনিটে জটলার মধ্যে থেকে গোল করেন ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবলার জবি জাস্টিন। এই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। ১৬ বার ডুরান্ড কাপ জেতা ইস্টবেঙ্গলকে বিদায় দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখায় ডায়মন্ড হারবার FC।
এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং এক নতুন যাত্রার ইঙ্গিত। কলকাতা ময়দানের দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের বাইরে গিয়ে এখন নতুন শক্তি হিসেবে উঠে আসছে ডায়মন্ড হারবার। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড FC। শনিবারের সেই লড়াইয়ে চোখ থাকবে গোটা দেশের ফুটবলপ্রেমীদের।
ফুটবলের এই জাদুকরী রাত প্রমাণ করে দিল, বাংলার ময়দান নতুন নায়ককে খুঁজে পেয়েছে। ডুরান্ড কাপ ফাইনাল জিতে ইতিহাস রচনা করতে পারবে কি না ডায়মন্ড হারবার, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।



