২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে জেলা হাসপাতালের ল্যাব, নির্দেশ স্বাস্থ্য দপ্তরের

রাজ্যের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টার সেন্ট্রাল ল্যাব চালু করার পাশাপাশি ৩০ নভেম্বরের মধ্যে অনলাইন রিপোর্টিং ও SMS পরিষেবা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যের প্রতিটি জেলা হাসপাতালে এবার ২৪ ঘণ্টার সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরি পরিষেবা চালুর নির্দেশ দিল স্বাস্থ্য দপ্তর। রোগীদের পরীক্ষা করাতে গিয়ে যাতে দীর্ঘ অপেক্ষা বা রিপোর্টের জন্য বারবার হাসপাতালে আসতে না হয়, সে জন্য নভেম্বরের মধ্যে ১০০ শতাংশ অনলাইন রিপোর্টিং এবং এসএমএস পরিষেবা চালুর সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

শুধু সাধারণ প্যাথলজি পরীক্ষা নয়, ব্যাকটিরিয়া ও হিস্টোপ্যাথলজির মতো উন্নত পরীক্ষার পরিষেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি হাসপাতালের ল্যাব পরিষেবাকে আরও সংগঠিত ও রোগীবান্ধব করতে স্বাস্থ্য ভবন থেকে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, জেলা হাসপাতালগুলিতে ‘সিঙ্গল সেন্ট্রাল ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি’ ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর সঙ্গে ‘সিঙ্গল প্রিক পলিসি’ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এর ফলে প্যাথলজি, ইন্টিগ্রেটেড কাউন্সেলিং অ্যান্ড টেস্টিং সেন্টার বা আইসিটিসি এবং ব্লাড ব্যাঙ্কের মতো বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত টেকনিশিয়ানদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এক জায়গায় আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁরা সুপারিনটেন্ডেন্টের একক প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন।

স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, জেলা হাসপাতালগুলিতে পরিকাঠামো ও কর্মী থাকলেও এতদিন সেই পরিকাঠামোর পূর্ণ সদ্ব্যবহার সব জায়গায় হচ্ছিল না। পরীক্ষার সংখ্যা, রিপোর্ট পাওয়ার সময়, অনলাইন রিপোর্টিং এবং কর্মীদের দক্ষ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন হাসপাতালের মধ্যে ব্যবধান ছিল।

নতুন ব্যবস্থায় ম্যানুয়াল রিপোর্টিং পুরোপুরি বন্ধ করার সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জেলা হাসপাতালগুলিতে ১০০ শতাংশ অনলাইন রিপোর্টিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

এর পাশাপাশি চালু করতে হবে এসএমএস পরিষেবা। পরীক্ষার রিপোর্ট সরাসরি রোগীর নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে পাঠানো হবে। যে ইউনিটে রোগীর চিকিৎসা চলছে, সেখানকার কম্পিউটার সিস্টেমেও রিপোর্ট পৌঁছে যাবে।

এর ফলে রিপোর্ট হাতে নেওয়ার জন্য রোগী বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের বারবার হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে বলে স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিকল্পনা।

জেলা হাসপাতালের সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরি পরিষেবা ২৪x৭ ভিত্তিতে চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি সময়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা যাতে বন্ধ না থাকে, তার জন্য বিশেষ ডিউটি রস্টার তৈরি করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরও এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রাখতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ রাত বা ছুটির দিনেও প্রয়োজনীয় ল্যাব পরিষেবা চালু রাখার জন্য কর্মী ও বিশেষজ্ঞদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।

নতুন ব্যবস্থায় রিপোর্টের নির্ভুলতার উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও ল্যাব রিপোর্ট প্রকাশের আগে তিনটি পৃথক স্তরে যাচাই করতে হবে।

প্রথমে হবে টেকনিক্যাল প্রসেসিং। এরপর সেকশন ভেরিফিকেশন এবং সবশেষে ল্যাব স্পেশালিস্টের ভ্যালিডেশন সম্পন্ন করতে হবে। এই তিন ধাপের যাচাই শেষ হওয়ার পরেই রিপোর্ট প্রকাশ করা যাবে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকায় ল্যাব পরিষেবাকে ইন্ডিয়ান পাবলিক হেলথ স্ট্যান্ডার্ডস (IPHS) এবং ন্যাশনাল হেলথ মিশনের (NHM) ফ্রি ডায়াগনস্টিক সার্ভিসেস ইনিশিয়েটিভের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঢেলে সাজানোর কথা বলা হয়েছে।

লক্ষ্য হল জেলা হাসপাতালগুলিতে পরীক্ষার পরিষেবার মান ও ব্যবস্থাপনায় আরও একরূপতা আনা। একইসঙ্গে রোগীর হাতে দ্রুত রিপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি জরুরি পরীক্ষার পরিষেবা যাতে ২৪ ঘণ্টাই পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করা।

স্বাস্থ্য দপ্তরের এই নির্দেশ কার্যকর হলে জেলা হাসপাতালের ল্যাব পরিষেবায় প্রশাসনিক সমন্বয়, অনলাইন রিপোর্টিং এবং জরুরি পরীক্ষার ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন