তিনি বলিউডের ‘হিম্যান’, পর্দার অন্যতম কিংবদন্তি। তিন শতাধিক ছবিতে অভিনয় করে ভারতীয় সিনেমাকে সমৃদ্ধ করা ধর্মেন্দ্র ছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা, পদ্মভূষণ সম্মানিত শিল্পী এবং প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ। এমন এক মহাতারকার প্রয়াণেও কেন ধর্মেন্দ্র রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হল না—সোমবার থেকেই এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে দেশজুড়ে। তাঁর অগণিত অনুরাগী হতবাক যে, শেষবারের মতো ‘বীরু’কে বিদায় জানাতেও সুযোগ পেলেন না তাঁরা।
ধর্মেন্দ্রর মৃত্যু-সংবাদ সামনে আসতেই পুরো বলিউডে শোকের ছায়া নেমে আসে। কিন্তু পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য না হওয়ায় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—পদ্মভূষণে ভূষিত, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রাক্তন সাংসদ এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম স্তম্ভকে এত নিভৃতে বিদায় কেন?


ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, প্রথমে সরকারিভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ধর্মেন্দ্র রাষ্ট্রীয় মর্যাদা সহ গান স্যালুটে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বেঁকে বসে দেন দেওল পরিবার। শুরু থেকেই তাঁরা চাননি, মৃত্যু নিয়ে অযথা প্রচার বা মিডিয়ার হইচই হোক।
প্রায় পনেরো দিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মেন্দ্রর ভুয়ো মৃত্যুখবর ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে আহত হন। জানা যায়, সেই ঘটনাই তাঁদের মানসিকভাবে এতটাই আঘাত করে যে, প্রকৃত মৃত্যুর খবরেও তাঁরা মিডিয়াকে দূরে রাখতে চান।
কেন পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া হল না ধর্মেন্দ্রকে? প্রকাশ্যে এল আসল কারণ
বলিউডের একাধিক সূত্র বলছে, ধর্মেন্দ্র রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিয়ে বিদায় জানালে প্রচুর ভিড় এবং মিডিয়ার ফোকাস তৈরি হত, যা পরিবার কোনওভাবেই চাইছিল না। তাই সরকারি প্রোটোকল মানতে রাজি হলেও, পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদার স্যালুট এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেন পরিবারের সদস্যরা।


তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি এখনও মেলেনি। তবুও বলিমহলে জোর গুঞ্জন—শান্ত, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশেই বাবাকে শেষবারের মতো বিদায় দিতে চেয়েছিলেন সানি ও ববি দেওল। সেই কারণেই তাঁদের অনুরোধে বাতিল হয় গান স্যালুট।
ধর্মেন্দ্রর অগাধ জনপ্রিয়তা, তাঁর বিশাল ফিল্মোগ্রাফি এবং বলিউডে তাঁর অবদান নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই। ‘শোলে’, ‘চুপке চুপকে’, ‘ধর্ম-वीর’, ‘ড্রিম গার্ল’—প্রতিটি চরিত্র যেন আজও দর্শকের হৃদয়ে জীবন্ত। তাই ভক্তদের ক্ষোভ স্বাভাবিক—এত বড়মাপের তারকার বিদায় কি এতটা নীরব হওয়া উচিত ছিল?

ধর্মেন্দ্র রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না পাওয়ার প্রশ্নে উঠছে another debate—ভারতীয় চলচ্চিত্রের আইকনদের শ্রদ্ধা জানাতে সরকারি প্রটোকল যথেষ্ট স্পষ্ট নয় কি? নাকি পরিবার চাইলে ব্যতিক্রম হতে পারে?
একদিকে তীব্র বিতর্ক, অন্যদিকে তাঁর প্রয়াণে স্তব্ধ গোটা ইন্ডাস্ট্রি। সানি এবং ববি জানিয়েছেন, বাবার মৃত্যু তাঁদের কাছে জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। তাঁরা এখন একান্তে সময় চাইছেন পরিবারকে সামলে নিতে।
বলিউডের জগতে বরাবরই ‘দেওল পরিবার’ মিডিয়া-সংবেদনশীল। আর তাই হয়তো কিংবদন্তির শেষ যাত্রাও রাখঢাকের মধ্যেই সেরে ফেলল পরিবার।
কিন্তু বিতর্ক যেখানে উঠেছে—সেখানেই স্পষ্ট, ধর্মেন্দ্র রাষ্ট্রীয় মর্যাদা নিয়ে আলোচনা আরও দিন চলবে। কারণ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এমন আরেকজন ধর্মেন্দ্র নেই, আর হতেই পারে না।








