যন্তর মন্তরে বাড়ছে জনস্রোত, শনিবারও বন্ধ দিল্লির ১৮ মেট্রো স্টেশন! চরম ভোগান্তিতে হাজার হাজার যাত্রী

যন্তর মন্তরে CJP-র আন্দোলন ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা আরও জোরদার। শনিবার সকাল থেকে ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকায় অফিসযাত্রী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লি: রাজধানী দিল্লি (Delhi)-তে ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party – CJP)-র ডাকা আন্দোলন ঘিরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে প্রশাসন। যন্তর মন্তরে দিন দিন বাড়তে থাকা জনসমাগমের জেরে শনিবারও শহরের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (Delhi Metro Rail Corporation – DMRC)। ফলে সপ্তাহান্তেও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া বিধিনিষেধ শনিবার আরও কড়া করা হয়েছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজধানীর একাধিক ব্যস্ততম স্টেশনে ট্রেন থামলেও যাত্রী ওঠানামা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

বন্ধ থাকা স্টেশনগুলির তালিকায় রয়েছে লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাকাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ, শিবাজি স্টেডিয়াম, ঝান্ডেওয়ালান এবং নয়াদিল্লি মেট্রো স্টেশন। এই স্টেশনগুলির অধিকাংশই যন্তর মন্তর ও প্রশাসনিক এলাকাগুলির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

যদিও শুক্রবার রাত ৯টার পর মান্ডি হাউস, রাজীব চক এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের প্রবেশদ্বার সাময়িকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছিল, শনিবার ফের কড়া নিরাপত্তা বলয় কার্যকর হয়েছে।

মেট্রো পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই বিপাকে পড়েন কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরা হাজার হাজার মানুষ। বিকল্প পরিবহণের অভাবে অনেককেই দীর্ঘ পথ হেঁটে যেতে হয়েছে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বহু অটোচালক অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাধিকা সাহু নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, আন্দোলনস্থলে পৌঁছনোর তুলনায় বাড়ি ফেরা অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় অ্যাপ-ক্যাব বুক করা সম্ভব হচ্ছে না। তার উপর মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন। প্রশাসনের উচিত ছিল অন্তত বিকল্প বাস পরিষেবার ব্যবস্থা করা।

DMRC-র এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এতগুলি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন একসঙ্গে এত দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রাখার ঘটনা সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিরল। লিখিত নথি না থাকলেও, সময়ের নিরিখে এটি দিল্লি মেট্রোর অন্যতম দীর্ঘতম পরিষেবা-বিধিনিষেধ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রশাসনের তরফে এখনও স্বাভাবিক পরিষেবা কবে ফিরবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও ঘোষণা করা হয়নি। যন্তর মন্তরে আন্দোলন অব্যাহত থাকায় শনিবারও রাজধানীতে নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি কতদিন চলবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন