দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্ত নিয়ে NIA–র হাতে ক্রমশ উঠে আসছে বিস্ফোরক তথ্য। দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্ত চলাকালীন চার অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এর মধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে পাকিস্তানি জৈশ হ্যান্ডলারের পাঠানো ৪২টি বোমা তৈরির ভিডিও, যা গোটা তদন্তকে নতুন মোড় দিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তেই স্পষ্ট, চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল গনাইয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের এক জৈশ-ই-মহম্মদ হ্যান্ডলারের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে ওই হ্যান্ডলার মুজাম্মিলের কাছে একের পর এক নির্দেশ পাঠাত। দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্ত–এর সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই হ্যান্ডলার ‘হানজুল্লা’ নামে একটি কোড নেম ব্যবহার করত।


জৈশ হ্যান্ডলার থেকে সরাসরি নির্দেশ: ৪২টি ভিডিওতে বোমা তৈরির টিউটোরিয়াল
গোয়েন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের শোপিয়ানের মৌলবী ইরফান আহমেদের মাধ্যমেই মুজাম্মিলের সঙ্গে ওই পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের যোগাযোগ গড়ে ওঠে। এরপর থেকেই হানজুল্লা নামে পরিচিত এই জৈশ হ্যান্ডলার এনক্রিপ্টেড চ্যানেলে পাঠাতে থাকে মোট ৪২টি বোমা তৈরির ভিডিও।
এই ভিডিওগুলি ব্যবহার করেই দিল্লি–সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় IED হামলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল কিনা, তা দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্ত টিম এখন খতিয়ে দেখছে।
২০০টি শক্তিশালী IED তৈরির পরিকল্পনা, টার্গেট ছিল দিল্লি–NCR-এর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা
NIA সূত্রে জানা গেছে, এই ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গি মডিউল অন্তত কয়েক মাস ধরে দিল্লি, গুরুগ্রাম এবং ফরিদাবাদের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা টার্গেট করছিল। তাদের পরিকল্পনা ছিল প্রায় ২০০টি শক্তিশালী IED তৈরি করা। এই মডিউলের সদস্যরা ছিলেন উচ্চশিক্ষিত পেশাদার, যারা কম প্রোফাইলে থেকে জঙ্গি চক্রের হয়ে কাজ করছিল।


দিল্লি বিস্ফোরণে পাক যোগ! ৪২টি বোমা তৈরির ভিডিও পাঠায় পাক হ্যান্ডলার
দিল্লি বিস্ফোরণে ব্যবহৃত i20 গাড়িটি ছাড়াও আরও দু’টি গাড়ি কেনা হয়েছিল। এই গাড়িগুলির মধ্যেই হয়তো বোমা রেখে বড় হামলার পরিকল্পনা ছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। হ্যান্ডলারের পাঠানো ভিডিও দেখে অভিযুক্তরা বোমা তৈরি করেছিল কিনা, সেটিও এখন NIA–র তদন্তের কেন্দ্রে।
টাকা পাচার ও জঙ্গি মডিউলের কার্যকলাপে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামও তদন্তে
দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্ত পরিচালনাকারী সংস্থা আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়েও তথ্য সংগ্রহ করছে। ফরিদাবাদের এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি নাকি জঙ্গি অর্থপাচারের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওখলা অফিস-সহ অন্তত ২৫টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে ৪৮ লক্ষ টাকার বেশি নগদ অর্থ, বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ নথি।
গোয়েন্দাদের অনুমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু অংশের সঙ্গে এই হোয়াইট কলার মডিউলের আর্থিক লেনদেন সরাসরি যুক্ত ছিল।

জেরা চলছে, আরও বড় জঙ্গি নেটওয়ার্কের খোঁজে NIA
চিকিৎসক মুজাম্মিল, শাহিন শাহিদ, আদিল আহমেদ রাঠের এবং মুফতি ইরফান আহমেদ ওয়াঘিকে বিস্তারিত জেরা করছে NIA। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই চার জনের মাধ্যমে আরও বড় একটি আন্তঃদেশীয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের দিকেই পৌঁছানো সম্ভব হবে।
দিল্লি বিস্ফোরণ তদন্ত এখন জোরকদমে চলছে, এবং গোয়েন্দারা মনে করছেন পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।








