পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডিএ মামলা ফের নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সুপ্রিম কোর্টে মামলার বারবার তারিখ পেছানো, প্রশাসনিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে—ডিএ মামলা শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ পুনর্গঠিত হয়েছে। তবে এই আপডেট কর্মচারীদের মধ্যে যেমন আশার সঞ্চার করছে, তেমনই তুলে দিচ্ছে নতুন কিছু প্রশ্নও। কারণ ডিএ মামলা উঠবে কি না, আদালতের কজ লিস্টে আদৌ নাম আসবে কি না—তা এখনো অনিশ্চিত।
বিশেষ বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র। এই দুই বিচারপতির বেঞ্চই এর আগেও দীর্ঘ সময় ধরে ডিএ মামলা শুনেছিল। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই বেঞ্চ ২৬ নভেম্বর দুপুর ২টোর সময় সুপ্রিম কোর্টের ১৩ নম্বর কোর্টরুমে বসবেন। এর ফলে আন্দোলনরত সরকারি ও আধাসরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আবার নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে—এবার কি শেষমেশ শুনানি হবে?


তবে আশার মাঝেই রয়েছে সংশয়। কর্মচারীদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বলছে—বেঞ্চ বসলেই ডিএ মামলা উঠবে এমন নয়। অতীতে বিশেষ বেঞ্চ গঠিত হলেও মামলাটি লিস্টে না উঠায় নির্ধারিত দিনে শুনানি হয়নি। এবারও একই ঘটনা ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠন, আজ কী মিলবে বহু প্রতীক্ষিত সুখবর?
বর্তমান কজ লিস্টে ডিএ মামলা-র কোনো উল্লেখ নেই। সাধারণত নিয়মিত Cause List ছাড়াও সুপ্রিম কোর্ট অতিরিক্ত Supplementary List প্রকাশ করে। সেই তালিকায় নাম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এখনো তেমন উল্লেখ পাওয়া যায়নি। ফলে ২৬ তারিখে প্রকৃতপক্ষে কী হবে, তা জানতে অপেক্ষা করতেই হবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।

কনফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ও পরিস্থিতি নিয়ে সাবধানী মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিশেষ বেঞ্চ গঠন অবশ্যই ইতিবাচক সংকেত, কিন্তু ডিএ মামলা লিস্টে তোলা হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তাঁর মতে, আগেও অনেকবার সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ বেঞ্চ বসিয়েছে, কিন্তু মামলা ওঠেনি। তাই কর্মচারীদের এখনই অত্যধিক আশাবাদী হওয়া ঠিক হবে না। আইনি প্রক্রিয়া জটিল, সময়সাপেক্ষ এবং অনিশ্চিত।


অবসরপ্রাপ্ত এবং বর্তমান কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজ্য সরকারের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে তাঁদের আশা একটাই—সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত রায় দেবে এবং বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পাওয়ার পথ খুলবে। তবে ডিএ মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই নীরবতা এবং বারবার শুনানি পিছিয়ে যাওয়া অনেকের মনেই হতাশা তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে নজর থাকছে একটাই জায়গায়—সুপ্রিম কোর্টের Supplementary List-এ। যদি শেষ মুহূর্তে নাম অন্তর্ভুক্ত হয়, তবেই ২৬ নভেম্বর শুনানির সম্ভাবনা তৈরি হবে। অন্যথায় এটি শুধুই বেঞ্চ পুনর্গঠনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই বিবেচিত হবে।
মূলধারার মিডিয়ায় এই খবর তেমন শোরগোল না তুললেও, সোশ্যাল মিডিয়া ও কর্মচারী সংগঠনগুলিতে ডিএ মামলা নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। আগামী কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুপ্রিম কোর্ট কি এবার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাবে, নাকি আবারও বাড়বে অনিশ্চয়তা—তা দেখতেই অপেক্ষায় রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কর্মচারী।








