নজরবন্দি ব্যুরোঃ মণীশ হত্যাকাণ্ডে বারাকপুর ও টিটাগড় পুরসভার দুই প্রশাসক উত্তম দাস এবং টিটাগড় পুরসভার প্রশাসক প্রশান্ত চৌধুরিকে জেরা করল সিআইডি। আর এই দুই প্রশাসককে সিআইডির জেরা করা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি প্রথম থেকেই অভিযোগ করে আসছে মণীশ হত্যার পেছনে রয়েছে তৃণমূলের হাত, সেইমত প্রয়াত মণীশের পরিবার এফআইআর দায়ের করে। মণীশ শুক্লার পরিবারের দায়ের করা এফআইআরে নাম রয়েছে দুই প্রশাসক উত্তম দাস এবং প্রশান্ত চৌধুরির।
আরও পড়ুনঃ ফের করোনা হানা কোলকাতা পুরসভায়, আক্রান্ত চার জন।
আজ বারাকপুর পুরসভার প্রশাসক উত্তম দাস এবং টিটাগড় পুরসভার প্রশাসক প্রশান্ত চৌধুরিকে ডেকে পাঠায় করে সিআইডি। তলব পেয়ে সিআইডি-র আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। পরে সংবাদমাধ্যম কে তাঁরা জানান, “মণীশ শুক্ল হত্যার ঘটনায় আমরা কোনওভাবেই যুক্ত নই। বিজেপি পরিকল্পনামাফিক কালিমালিপ্ত করতে চাইছে। সেই কারনেই এফআইআরে রাখা হয়েছে। সিআইডি তলব করেছিল, দেখা করেছি। তদন্তের স্বার্থে ভবিষ্যতে আবারও সিআইডি তলব করলে দেখা করব।”
মণীশ হত্যাকাণ্ডে বারাকপুর ও টিটাগড় পুরসভার দুই প্রশাসক কে জেরা করল CID। তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন দুই প্রশাসক। অন্যদিকে দুই প্রশাসককে জেরার পরেও একটা সন্তুষ্ট নন বারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। তাঁর দাবি সবই আইওয়াস! অর্জুন এদিন বলেন, “মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বারাকপুর পুরসভার প্রশাসক উত্তম দাস এবং টিটাগড় পুরসভার প্রশাসক প্রশান্ত চৌধুরিকে সিআইডির তলব আইওয়াশ ছাড়া কিছুই নয়।”
উল্লেখ্য, গত শনিবার বারাকপুরের বিজেপি সাংসদ দাবি করেন মণীশ হত্যায় তাঁকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, টিটাগড়ে বিজেপির যুব নেতা খুনের ঘটনা আসলে পুলিশ ও তৃণমূলের যৌথ অপারেশন। পুলিশ যে চার জনকে গ্রেফতার করেছে তারা চুনোপটি। আসল অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরছে। সিআইডি আমাকে কিভাবে ফাঁসাবে তার ষড়যন্ত্র করছে। হোয়াটঅ্যাপে চ্যাট সেই ষড়যন্ত্রের অংশ বিশেষ আমি পেয়েছি। যা দেখে বোঝা যাচ্ছে সিআইডি আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টায় রয়েছে!
প্রসঙ্গত, কদিন আগে টিটাগড় থানার উলটোদিকে বিজেপি কার্যালয়ে ঢুকে গুলি চালিয়ে মণীশ শুক্লার শরীর ঝাঁজরা করে দেয় চার বন্দুকবাজ। উন্নতমানের নাইন এমএম কার্বাইন থেকে গুলি চালানো হয়। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় মণীশের । এই ঘটনা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।



