হাই কোর্টের নির্দেশে আরজি করে মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই। এ ছাড়া, ওই হাসপাতালে আর্থিক অনিয়মের মামলার তদন্তভারও সিবিআইয়ের হাতে দিয়েছে আদালত। রবিবার সকাল থেকে সেই তদন্তেই নামে সিবিআই। এবার আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে মুখ্যমন্ত্রীর ফোনও সিবিআই স্ক্যানারে আনার দাবি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের। তাঁর দাবি, “পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একটি দুষ্ট চক্র চালাচ্ছে”। “বাংলার মানুষ দেখতে চায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতেও যাক সিবিআই।” এছাড়াও রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব, মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা, ডিজিপি, পুলিশ কমিশনারেরও ফোন বাজেয়াপ্ত করার দাবি সুকান্তর।
আরজি কর হাসপাতালে সন্দীপ ঘোষ-সহ হাসপাতালের একাধিক আধিকারিক এবং কর্মচারীর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করেন হাসপাতালের প্রাক্তন অতিরিক্ত সুপার আখতার আলি। তাঁর অভিযোগপত্রে মোট ১৫টি অনিয়মের উল্লেখ রয়েছে। যার মধ্যে, সরকারের টাকার অনিয়ম, কোটি কোটি টাকার কাজের বরাত নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দেওয়া ছাড়াও হাসপাতালের জৈব বর্জ্য বা বায়োমেডিক্যাল ওয়েস্ট বেআইনি ভাবে বাইরে বিক্রি করে দেওয়ার মতো দুর্নীতি। যার ওপর ভিত্তি করেই এবার তল্লাশি অভিযানে নেমেছে সিবিয়াই। একাধিক দলে ভাগ হয়ে একসঙ্গে ১৫ জায়গায় একযোগে হানা সিবিআইয়ের। আর এই প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন, কেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন,”স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন বাজেয়াপ্ত করুক সিবিআই।”


এদিন এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সিবিআইয়ের তল্লাশি অভিযান সম্পর্কে তিনি বলেন,”এইরকম আর্থিক দুর্নীতি আরজিকর ছাড়াও অন্যান্য হাসপাতালেও রয়েছে। পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একটা দুষ্টচক্র দ্বারা চালিত হচ্ছে। এই চক্রে ডাক্তার ছাড়াও বেশ কিছু প্রভাবশালীরাও রয়েছেন। তাই বাংলার মানুষ দেখতে চাইছে কবে বাংলার স্বাস্থ্য মন্ত্রীর বাড়িতে ঢুকে সিবিআই তল্লাশি করবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন বাজেয়াপ্ত করুক সিবিআই।” একই সঙ্গে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজীব কুমারের ফোনও বাজেয়াপ্ত করার কথা বলেন সুকান্ত মজুমদার।
এরপর এদিন সন্দীপ ঘোষের বাড়িতে সিবিআই যাওয়ার প্রায় এক ঘন্টা পর দরজা খোলার প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই এক ঘন্টায় সন্দীপ ঘোষ ফোনে কার কার সাথে কথা বলেছেন সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হোক। এছাড়াও পলিগ্রাফ টেস্ট করে জানার চেষ্টা করা হোক এই এক ঘন্টা উনি কি করেছিলেন।”







