নজরবন্দি ব্যুরো: প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলাতে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রশ্নের মুখে পড়ল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, পর্ষদের বাইরে থাকা কোন সংস্থাকে ‘কনফিডেনশিয়াল সেকশন’ বলে অভিহিত করা যায় না।
আরও পড়ুন:Teacher: এবার স্বচ্ছতার সাথে নিয়োগ, প্রাথমিক স্তরে ২৭১৫টি পদে শিক্ষক নিয়োগ রাজ্যে
প্রসঙ্গত, সোমবার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের ‘কনফিডেনশিয়াল সেকশন’ এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ হল, ‘আইনে পর্ষদের হাতে এই ধরনের কোন ক্ষমতা দেওয়া আছে কিনা তাও স্পষ্ট নয়।‘ প্রাথমিকের ২০২০ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত মামলায় এই মন্তব্য করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। একানে বলে রাখা দরকার, ওএাআর সরবরাহ থেকে শুরু করে মূল্যায়ন এবং মেধাতালিকা তৈরির কাজ করত এই সংস্থা।

এদিন বিচারপতির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, ‘ভদ্র না অভদ্র কে গ্রেফতার হয়েছে সেটা নিয়ে আমি ভাবছি না।’ এর আগেও নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় একাধিক উল্লেখযোগ্য নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ২০১৪ সালে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিঞ্জপ্তি জারি হয়। এর ভিত্তিতে ২০১৬ সালে নিয়োগ হয়েছিল প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষক। এরপর বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় নিয়োগ হওয়া ওই শিক্ষকদের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিচারপতির নির্দেশে জানিয়েছিলেন, তিন মাস পর্যন্ত প্যারা টিচার হিসেবে কাজ করতে পারবেন তাঁরা। সেই স্কেলেই বেতন পাবেন তাঁরা।

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই নির্দেশ সামনে আসতেই রাজ্য জুড়ে আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। পথে নেমে প্রতিবাদ করেন ওই প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষক। আর পর্ষদও পাশে দাঁড়ায় তাঁদের। বিষয়টি এখন ডিভিশন বেঞ্চের বিচারাধীন। ইতিমধ্যে নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত দুটি মামলা সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশে সরে গিয়েছে।
অতীতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতা অধিকারীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, বেতন বাবদ তিনি যে টাকা পেয়েছিলেন তাও ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কুন্তল ঘোষের চিঠি সংক্রান্ত মামলাতেও উল্লেখযোগ্য নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছিলেন, এই ঘটনায় তদন্তকারী সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই নির্দেশের পর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে এই মামলাটি ওঠে।
প্রাথমিকে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা, পর্ষদের কনফিডেনশিয়াল সেকশনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ একই নির্দেশ বহাল রাখে ।বিচারপতি সিনহা কুন্তল ঘোষ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২৫ লাখ টাকা করে জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর সেই নির্দেশের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু, জরিমানার উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হলেও জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশে কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট।



