২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে বাংলায়। সেই তালিকায় নজর কেড়েছে যাদবপুর কেন্দ্র। এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে বামফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বিশিষ্ট আইনজীবী ও কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য-এর নাম। ঘোষণা হতেই সময় নষ্ট না করে সরাসরি মাঠে নেমে পড়েছেন তিনি। সোমবার যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয় তাঁর সমর্থনে বামেদের প্রথম প্রচার মিছিল।
সিপিআইএমের ডাকে আয়োজিত এই মিছিলে কয়েকশো কর্মী-সমর্থক অংশ নেন। বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের পাশে ছিলেন বাম যুব নেতৃত্বের অন্যতম মুখ সৃজন ভট্টাচার্য এবং সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। যাদবপুরের রাস্তায় লাল পতাকার মিছিলকে ঘিরে নির্বাচনী আবহ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক ইতিহাসের দিক থেকে যাদবপুর দীর্ঘদিন বামেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত ছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-এর বিধানসভা কেন্দ্র ছিল এই যাদবপুর। তবে ২০১১ সালের পরিবর্তনের নির্বাচনে এই কেন্দ্রেই পরাজিত হন তিনি।
পরবর্তী সময়ে অবশ্য আবার ঘুরে দাঁড়ায় বামেরা। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআইএম প্রার্থী সুজন চক্রবর্তী এই আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। কিন্তু ২০২১ সালের নির্বাচনে আবারও হাতছাড়া হয়ে যায় যাদবপুর।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই হারানো জমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এবার শক্তিশালী মুখ হিসেবে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যকে সামনে এনেছে বামফ্রন্ট। আইনজীবী হিসেবে তাঁর পরিচিতি যেমন রয়েছে, তেমনই কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে সিপিআইএম প্রার্থী ছিলেন সৃজন ভট্টাচার্য। সেই নির্বাচনে যাদবপুর লোকসভার অন্তর্গত যাদবপুর বিধানসভা এলাকায় বামেদের ভোট শতাংশ তুলনামূলকভাবে ভালই ছিল। ফলে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক লড়াই জমে উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এখন নজর একটাই—বামেদের এককালের শক্ত ঘাঁটি যাদবপুরে কি আবার লাল পতাকা উড়বে, নাকি রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাবে নতুন করে?



