দিল্লি বিস্ফোরণের পর যখন ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুমুলভাবে আলোচনায়, ঠিক তখনই অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমানের একটি মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। তাঁর দাবি, ভারত যদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে না দেয়, তবে Bangladesh India Terror Threat বাস্তবে রূপ নিতে পারে। হাসিনুরের ভাষায়, প্রয়োজনে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলোকেও আশ্রয় দেওয়া হবে।
মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড—প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ মন্তব্য
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে “নৈতিক জয়” বলে আখ্যা দিয়ে হাসিনুর রহমান জানান,
“এই রায়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর ভাষা নেই। আমাকে যে গুম, নির্যাতন, আয়নাঘরে যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছিল—তার ন্যায়বিচার পেলাম।”
তার দাবি, বিচার দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না হলে শান্তি মিলবে না।
এই মন্তব্য ঘিরে Bangladesh India Terror Threat বিষয়টি আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
“পশ্চিমবঙ্গের লোকেরা সাহায্য না করলে ভারত শান্তিতে থাকবে না”—হাসিনুরের হুমকি
হাসিনুর রহমান আরও বলেন,
“শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের জনগণ, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের ভূমিকা প্রয়োজন। যদি তারা সাহায্য না করে, তাহলে আমরা ভারতের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেব। ভারত শান্তিতে থাকবে না।”
এই সরাসরি হুমকি কূটনৈতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি সুস্পষ্ট Bangladesh India Terror Threat, যা দুই দেশের সম্পর্কের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ঢাকার অনুষ্ঠানে পাক জঙ্গি নেতার উপস্থিতি—বিপদের নতুন সঙ্কেত
ডেক্কান ক্রনিকলের রিপোর্ট অনুযায়ী, দিল্লি বিস্ফোরণের কয়েকদিন আগেই ঢাকার বনানীতে একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিল পাকিস্তানি জঙ্গি নেতা সাইফ।
সেই অনুষ্ঠানস্থলে হাজির ছিল বাংলাদেশি নিষিদ্ধ সংগঠনের একাধিক সদস্য, পাশাপাশি কিছু সরকারি আমলাও।
রিপোর্ট দাবি করছে,
সেই বৈঠকেই ভারতকে লক্ষ্য করে বড়সড় হামলার নির্দেশ দেয় সাইফ।
এমনকি পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈবার থেকে সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়।
এই তথ্য সামনে আসতেই Bangladesh India Terror Threat ইস্যু নতুন মাত্রা পায়।
মুর্শিদাবাদ হয়ে ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশের অভিযোগ
রিপোর্টে বলা হয়েছে, বনানীর বৈঠকের পরই একটি জঙ্গি দল মুর্শিদাবাদ হয়ে ভারতে প্রবেশ করে।
ইক্তিয়ার নামে এক বাংলাদেশি অবৈধবাসীর বাড়ি নাকি তাদের সেফহাউজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
একই সঙ্গে পাকিস্তান থেকে বিস্ফোরক সরঞ্জামও বাংলাদেশ হয়ে ভারতে পৌঁছয় বলে দাবি। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই সম্ভাব্য Bangladesh India Terror Threat নিয়ে তদন্তে নেমেছে।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়া—“সব বক্তব্য ভুয়া”
বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হুসেন জানিয়ে দিয়েছেন,
ভারতবিরোধী হামলা বা সন্ত্রাসীদের আশ্রয়—সবই ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভুল তথ্য।
সরকার এমন কোনও কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। তবে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দুই দেশের নিরাপত্তা সম্পর্কেই নতুন প্রশ্ন তুলছে।







