বাংলাদেশ–ভারত ম্যাচে বাংলাদেশ ১–০ এগিয়ে, দ্বিতীয়ার্ধে দাপট দেখাচ্ছে ভারত

এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ–ভারত ম্যাচে প্রথমার্ধে মোরছালিনের গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতেই গোল শোধে মরিয়া ভারতীয় দল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের বহু প্রতীক্ষিত বাংলাদেশ–ভারত ম্যাচ শুরু হতেই জাতীয় স্টেডিয়াম পরিণত হয় এক উৎসবমুখর ফুটবল মঞ্চে। গ্যালারি পরিপূর্ণ দর্শকে, বাইরে আরও হাজারো সমর্থক ঢোকার অপেক্ষায়। সেই উত্তেজনার আবহেই ম্যাচের প্রথমার্ধে দারুণ ফুটবল উপহার দেয় বাংলাদেশ। মাত্র ১১ মিনিটে শেখ মোরছালিনের দুর্দান্ত গোলেই এগিয়ে যায় লাল–সবুজ ব্রিগেড। সেই লিড ধরে রেখে প্রথমার্ধ শেষ করে বাংলাদেশ ১–০ গোলে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ছিল ভারত। প্রথম দশ মিনিট বল ছিল প্রায় পুরো সময়ই বাংলাদেশের অর্ধে। কিন্তু পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ভারতীয় আক্রমণভাগ। উল্টো দারুণ এক পাল্টা আক্রমণ থেকেই আসে বাংলাদেশের গোল। বাঁ প্রান্ত দিয়ে রাকিবের বাড়ানো পাস বক্সের মধ্যে পেয়ে দারুণ ফিনিশিং করেন মোরছালিন। ভারতীয় গোলকিপারকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। বাংলাদেশের হয়ে এটি তাঁর সপ্তম গোল, যা স্টেডিয়ামে থাকা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।

বাংলাদেশ–ভারত ম্যাচে বাংলাদেশ ১–০ এগিয়ে, দ্বিতীয়ার্ধে দাপট দেখাচ্ছে ভারত

বাংলাদেশ–ভারত ম্যাচে বাংলাদেশ ১–০ এগিয়ে, দ্বিতীয়ার্ধে দাপট দেখাচ্ছে ভারত
ভারতের বিপক্ষে প্রথম গোলের পর মোরছালিন

প্রথমার্ধে বাংলাদেশ–ভারত ম্যাচ উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় ৩৪ মিনিটে। বাংলাদেশের তপু বর্মণ ও ভারতের বিক্রমের সংঘর্ষে মাঠে হাতাহাতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। রেফারি দু’জনকেই হলুদ কার্ড দেখিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। এই উত্তেজনার মধ্যেই আক্রমণে তৎপর ছিল ভারত। গোলকিপার মিতুল মারমারের এক ভুল থেকে গোল খাওয়ার উপক্রম হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে দলের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান হামজা চৌধুরী। তাঁর হেডে গোললাইন থেকে ক্লিয়ার হয় বিপজ্জনক বল।

বাংলাদেশের পক্ষেও কিছু ধাক্কা আসে। ম্যাচের ২৭ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তারিক কাজী। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন শাকিল আহাদ তপু। তবুও মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা নিজেদের সামলে রাখে এবং প্রথমার্ধের শেষে স্কোরলাইন থাকে ১–০, লিডে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে ভারত। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই চারদিকে চাপ সৃষ্টি করে গোল শোধের খুব কাছেও পৌঁছে যায় তারা। কিন্তু বাংলাদেশ গোলরক্ষক ও ডিফেন্স লাইনের দৃঢ়তায় ভারতের সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। মিতুলের সেভ, তপু–হামজার দৃঢ় রক্ষণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বাংলাদেশ ম্যাচে টিকে থাকে।

বাংলাদেশের মধ্যমণি মোরছালিন ও শমিত সোমের একাদশে ফেরাও এ ম্যাচে বাড়তি শক্তি এনে দিয়েছে। তাদের উপস্থিতি আক্রমণে যেমন গতি যোগায়, তেমনি রক্ষণাত্মক ফুটবলও সুনির্দিষ্ট করে। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও সোহেল রানা জুনিয়রকে বাদ দিয়ে আজ নতুন রণকৌশল সাজান কোচ। মাঠে তার প্রতিফলনও স্পষ্ট।

ম্যাচে সবচেয়ে বড় চমক তৈরি হয়েছে গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের উন্মাদনায়। বাংলাদেশ–ভারত ফুটবল ম্যাচ যে সবসময়ই আবেগময় হয়ে ওঠে, তার প্রমাণ মিলেছে শুরু থেকেই। প্রতিটি আক্রমণ, প্রতিটি রক্ষণভাগের লড়াই, প্রতিটি সুযোগেই গর্জে উঠছিল স্টেডিয়ামের সমর্থকরা।

এখনও ম্যাচের অনেকক্ষণ বাকি। স্কোরলাইন ১–০ হলেও বাংলাদেশ–ভারত ম্যাচ ক্রমশ আরও জমে উঠছে। বাংলাদেশ লিড ধরে রাখতে মরিয়া। অন্যদিকে ভারত গোল শোধে তেতে আছে। আপাতত ৭৯ মিনিটের খেলা হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত