বজবজে গভীর রাতে পুলিশের অভিযান, উদ্ধার বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র—ধৃত বিহারের যুবক

গোপন সূত্রে তথ্য পেয়ে রাতভর নাকা চেকিং, বাজেয়াপ্ত পিস্তল-ওয়ান শাটার সহ একাধিক কার্তুজ; তদন্তে বড় নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজে বজবজে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ঘিরে উত্তাল নিরাপত্তা মহল। সোমবার গভীর রাতে বিশেষ নাকা চেকিং চালিয়ে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার টহলদল একাধিক আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে বিহারের বাসিন্দা মৌনফ পার্সে ওরফে বাবুকে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কর্মসূত্রে সে দীর্ঘদিন ধরেই বজবজ এলাকায় থাকছিল।

বজবজে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার–এর ঘটনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে দিল্লির সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের পরে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি বাড়ানোয়। কেন্দ্রীয় সতর্কতা পাওয়ার পর রাজ্যের প্রতিটি থানায় টহল, নাকা চেকিং এবং রাতভর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সেই পরিবেশেই গোপন সূত্রে খবর আসে, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কেউ এলাকা পেরোতে পারে। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালায় এবং এর ফলেই মেলে বড় সাফল্য।

তল্লাশি চলাকালীন পুলিশ একটি নাইন এমএম পিস্তল, দুটি ওয়ান শাটার বন্দুক এবং একাধিক কার্তুজ উদ্ধার করে। অভিযুক্তকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। অস্ত্রগুলি দেশের বাইরে থেকে এসেছে নাকি স্থানীয় কোনও চক্রের হাত ধরে West Bengal-এ ঢুকেছে, তা নিয়ে এখন তদন্ত চলছে।

ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে জানিয়েছেন, গোপন তথ্য পাওয়ার পরই বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। ধৃত মৌনফকে আদালতে পেশ করা হবে এবং হেফাজতে নিয়ে জেরা চলবে। পুলিশ জানতে চাইছে, অস্ত্রগুলি কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল এবং সে কতদিন ধরে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত।

তদন্তে উঠে আসছে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
মৌনফ কি শুধুই অস্ত্র পাচারের বাহক ছিল, নাকি কোনও বড় অস্ত্র চক্রের সক্রিয় সদস্য?
এই মুহূর্তে দুই সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এর পিছনে আন্তঃরাজ্য অস্ত্র নেটওয়ার্ক থাকতে পারে। সেই কারণেই তদন্তে রাখাহচ্ছে বিহারের কয়েকটি জেলার সঙ্গে সংযোগ।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বজবজ এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ও অস্ত্র পাচারের রুট হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই এলাকাকে হাই অ্যালার্ট জোন করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, রাতে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের পিছনে কোনও বড় উদ্দেশ্য ছিল বলেই সন্দেহ করা হচ্ছে।

বজবজে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। স্টেশন, ফেরিঘাট, হাইওয়ে, বাজার—সর্বত্র বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা রিং। পুলিশ ইতিমধ্যেই স্থানীয় সোর্সদের সক্রিয় করেছে এবং একাধিক সন্দেহভাজনের তালিকা তৈরি করছে।

এই ঘটনার পর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উদ্ধার শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি বড় কোনো সন্ত্রাসী যোগসূত্র বা দুষ্কৃতী চক্রের দিকেই ইঙ্গিত করছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই রাজ্যজুড়ে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।

বজবজে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এবং অভিযুক্তের মাধ্যমে বড় নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত