প্রভাস অভিনীত বাহুবলি – দ্য এপিক ফের প্রেক্ষাগৃহে ফিরেই যেন নতুন করে ইতিহাস লিখছে। এস এস রাজামৌলির পরিচালনায় এই কালজয়ী সিনেমাটি আবারও দর্শকদের উন্মাদনায় ভাসিয়ে দিয়েছে। মাত্র একদিনেই রি-রিলিজ হওয়া ছবিটি জেমস ক্যামেরনের অ্যাভাটার-কে টপকে ভারতের দশম সর্বোচ্চ রি-রিলিজড ছবি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
৩০ অক্টোবরের প্রিমিয়ার শো থেকেই শুরু হয়েছিল ছবির জয়যাত্রা। প্রিমিয়ারেই আয় হয় ₹১.১৫ কোটি। এরপর ৩১ অক্টোবর রি-রিলিজের প্রথম দিনেই ছবি সংগ্রহ করে আরও ₹৯.২৫ কোটি। অর্থাৎ দুই দিন মিলিয়ে মোট ₹১০.৪০ কোটি—যা অ্যাভাটার-এর ₹১০ কোটি রি-রিলিজ আয়ের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।


একদিনেই নতুন রেকর্ড
রি-রিলিজের প্রথম দিনেই বাহুবলি – দ্য এপিক তৈরি করেছে ভারতের সর্বোচ্চ ডে-ওয়ান কালেকশন রেকর্ড কোনও রি-রিলিজড ছবির ক্ষেত্রে। এই রেকর্ডের ফলে পিছনে পড়েছে পবন কল্যাণের গাব্বার সিং। বিশ্লেষকদের মতে, ছবিটির পুনরায় মুক্তির সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে যে বাহুবলি-র জনপ্রিয়তা সময়ের সঙ্গে আরও বেড়েছে।

টিকিটিং প্ল্যাটফর্মগুলির রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই বিক্রি হয়েছে ৫ লক্ষাধিক টিকিট। কোনওভাবেই কমছে না দর্শকদের আগ্রহ। এই ধারা বজায় থাকলে, শিগগিরই বাহুবলি – দ্য এপিক ভারতের শীর্ষ পাঁচ রি-রিলিজড ছবির তালিকাতেও জায়গা করে নিতে পারে বলে মনে করছেন ট্রেড বিশ্লেষকরা।
কেন দর্শকরা আবার ছুটছেন বাহুবলি দেখতে
বছরের পর বছর কেটে গেলেও রাজামৌলির কাহিনি বলার ধরন আজও অমলিন। প্রভাস, অনুষ্কা শেট্টি, তামান্না ভাটিয়া, সত্যরাজ, রম্যা কৃষ্ণন ও নাসার অভিনীত এই সিনেমা ভারতীয় চলচ্চিত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।


এই সময়ে যখন হলিউডের অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার রি-রিলিজে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি, তখন বাহুবলি – দ্য এপিক-এর এই পুনর্জাগরণ প্রমাণ করছে, ভারতীয় দর্শকদের মনে রাজামৌলির ছবির প্রভাব এখনও অপরাজেয়।
দর্শকেরা জানিয়েছেন, বড়পর্দায় আবারও বাহুবলি দেখা একদিকে নস্টালজিয়া, অন্যদিকে নতুন করে রোমাঞ্চের অভিজ্ঞতা। বিশাল যুদ্ধের দৃশ্য, সংলাপ আর সঙ্গীত—সব মিলিয়ে ছবিটি আবারও প্রেক্ষাগৃহে ‘গুজবাম্পস’ তৈরি করছে।

অবতার-কে হারিয়ে শীর্ষে উঠছে বাহুবলি
₹১০.৪ কোটি আয় করে বাহুবলি – দ্য এপিক এখন শুধু অবতার-কেই নয়, সাম্প্রতিক কালে রি-রিলিজ হওয়া একাধিক বিদেশি ছবিকেও পেছনে ফেলেছে। অ্যাভাটার-এর রি-রিলিজে আয় হয়েছিল ₹১০ কোটি, যা এখন দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, হায়দরাবাদ, চেন্নাই ও বেঙ্গালুরুতে প্রভাসের জনপ্রিয়তা এতটাই যে বেশিরভাগ প্রেক্ষাগৃহে বাড়ানো হচ্ছে অতিরিক্ত শো। এই প্রবল চাহিদা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাহুবলি – দ্য এপিক হয়তো শিগগিরই ভারতের সর্বোচ্চ রি-রিলিজড ছবির তালিকার শীর্ষস্থানেও পৌঁছে যেতে পারে।
এই পুনরায় মুক্তি প্রমাণ করেছে, সত্যিকারের সিনেমার কোনও মেয়াদ থাকে না। এস এস রাজামৌলির সৃজনশীলতার সঙ্গে প্রভাসের অবিস্মরণীয় অভিনয় মিলে বাহুবলি – দ্য এপিক আজও যেমন দর্শকদের মুগ্ধ করছে, তেমনই বক্স অফিসেও রেকর্ড গড়ছে।
ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে বাহুবলি – দ্য এপিক শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্র নয়—এটি এক যুগান্তকারী অভিজ্ঞতা, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অনুপ্রেরণা জোগাবে।








