করোনা নিয়ে আশ্বাস বাণী মুখ্য সচিবের মুখে।

করোনা নিয়ে আশ্বাস বাণী মুখ্য সচিবের মুখে।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘প্যানিক করবেন না। পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। করোনা যে গতিতে এগোচ্ছে তার চেয়ে বেশি গতিতে আমরা (সরকার) এগোচ্ছি।’  বললেন রাজ্যের মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা। তিনি আরও বলেন মুখ্যসচিব এ দিন বলেন, ”আনলক শুরু হওয়ার সময় থেকেই ধরে নেওয়া হয়েছিল, সংক্রমণের সংখ্যা বাড়বে। সেটাই স্বাভাবিক। তার সঙ্গে দৈনিক কোভিড পরীক্ষা বৃদ্ধি হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ নতুন করে করোনা সংক্রমণ কেরলে, মিলেছে গোষ্ঠী সংক্রমণের হদিশ

ফলে সংক্রমণও ধরা পড়ছে বেশি।” রাজ্যে এই মুহূর্তে আক্রান্ত ১৫ হাজার মানুষের মধ্যে ৭২ শতাংশই উপসর্গহীন ছিলেন বলে মনে করিয়ে দেন তিনি। এই প্যানিক না করারা কারণ হিসেবে ১০ দফা যুক্তিও দেন রাজীব বাবু।সে গুলি এই রকম। ১. এই মুহূর্তে আমাদের রাজ্যে ১৪ হাজার ৭০৯ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ সক্রিয় (অ্যাকটিভ কেস) রয়েছে। ২. তাঁদের মধ্যে ১০ হাজার ৫০০ জনের (৭০ শতাংশ) মতো উপসর্গহীন। তাঁরা রয়েছেন বাড়িতে বা সেফ হোমে। ৩. দু’হাজার ২০০ জনের শরীরে সংক্রমণ মৃদু। ৪. কম সিরিয়াস রয়েছেন ১২৫০ জন। 

৫. ভীষণ সিরিয়াস রয়েছেন ৬৬০ জন।। ৬. কম সিরিয়াস এবং ভীষণ সিরিয়াস যোগ করলে সংখ্যাটা হবে ১৯০০ জনের মতো। ১০ কোটির রাজ্যে ১৯০০ সংখ্যাটা কি বিরাট কিছু? ৭. আমাদের রাজ্যে মৃত্যুর হার কমেছে। শুরুর দিকে এটা বেশি ছিল। কিন্তু এখন আমাদের রাজ্যে মৃত্যুর হার ২.৭৬ শতাংশ। জাতীয় গড়ের থেকে সামান্য বেশি। সারা দেশে মৃত্যুর হার ২.৫৩ শতাংশ।৮. প্রতিদিন সারা রাজ্যে ১০০ জনের মতো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ৯. আমাদের রাজ্যে বেডের অভাব শুরু হয়নি। বহু জায়গায় বেড খালি পড়ে রয়েছে। কলকাতাতেও এখনও ১৫০০ বেড ফাঁকা রয়েছে।

 ১০. সেফ হোমে আজকের দিনে ছ’হাজার বেড রয়েছে। মুখ্যসচিব এদিন বলেন, ‘আগামী দিনে সংক্রমণ বাড়বে। শহরের সঙ্গে গ্রামীণ এলাকাতে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। রাজ্য সরকার সমস্ত প্রস্তুতি রেখেছে।’ তবে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলেও রাজ্যে কনটেইনমেন্ট জন ছাড়া লকডাউনের পরিকল্পনা নেই সরকারের, সেটা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন তিনি।

এই সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যে মৃত্যুর হার কমার প্রসঙ্গও তুলেছেন রাজীব সিংহ। একটা সময় জাতীয় গড়ের থেকে অনেকটা উপরে ছিল রাজ্যে মৃত্যুর হার। এখন তা কাছাকাছি চলে এসেছে। রাজীব বলেন, ‘রাজ্যে এখন মৃত্যুর হার ২.৭ শতাংশ। জাতীয় গড় ২.৫ শতাংশ।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র গাইডলাইন মেনে রাজ্যে এখন প্রতিদিন, প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যা পিছু অন্তত ১৪০ জনের কোভিড টেস্ট হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যসচিব। তিনি বলেন, ”এই মুহূর্তে সংখ্যাটা ১৪৪।” এটা ২৭৫-এ তুলে আনা সরকারের লক্ষ্য— বলেন মুখ্যসচিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x