মঙ্গলবার বিকেল বেলা আরজি কর হাসপাতালে গেলেন পরিচালক অভিনেত্রী অপর্ণা সেন। তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় আরজিকর হাসপাতালে যে আন্দোলন চালাচ্ছেন চিকিৎসকেরা, সেই আন্দোলনকে সমর্থন করতে গিয়েই ক্ষোভের সম্মুখীন হতে হল অপর্ণা সেনকে। তাঁকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করলেন বাম কর্মী সমর্থকেরা। তাঁদের প্রশ্ন, “কেন তিনি এখন এসেছেন? অন্যান্য সময় তো তাঁকে দেখা যায় না!” সঙ্গে অপর্ণা সেনকে ‘চটিচাটা বুদ্ধিজীবী’ বলেও কটাক্ষ করেন তাঁরা।
মঙ্গলবার বিকেলে শ্যামবাজার মোড় থেকে আরজি কর পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন বিদ্বজ্জনরা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে অপর্ণা সেন মিছিলে না হেঁটে সরাসরি পৌঁছে যান আরজি করে। তিনি যখন যান তখন বাইরে থিকথিক করছে ভিড়। অভিনেত্রীকে দেখামাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাম কর্মীরা। কোনও ক্রমে পাশ কাটিয়ে হাসপাতালের ভিতরে প্রবেশ করেন অপর্ণা। কথা বলেন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে। অপর্ণা বলেন, ‘‘আমার কণ্ঠ তোমাদের কণ্ঠস্বরের সঙ্গে মেলাতে এলাম। তোমাদের দাবির সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত।’’
সোমবারও কলকাতার নাগরিক সমাজ সেন্টারল অ্যাভিনিউতে একটি মিছিল করে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কৌসশিক সেনের পরিবার। আসলে, ২০১১ সালের আগে কৌশিক বা অপর্ণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করেছিলেন। যে কারণে, তাঁদের ওপর বাম কর্মীদের একটা ক্ষোভ রয়েছে। এদিন অপর্ণা ভিতরে প্রবেশ করে আরও বলেন, ‘‘অপরাধীদের ধরতে পারলে তাদের কঠোর, কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। পুলিশের জবাবদিহি করার প্রয়োজন আছে। কেন প্রথমে আত্মহত্যা বলা হল? কার নির্দেশে? পুলিশ কেন তক্ষুনি ময়নাতদন্তের জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠল? যে হাসপাতালে এমন ঘটনা ঘটেছে, সেখানেই কেন ময়নাতদন্ত করা হয়েছে? এই সব প্রশ্নের জবাব চাই। আমাদের দাবি, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত হোক।’’
আরজি করে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। টানা চার দিন ধরে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকেরা। শহরের নানান প্রান্তে লাগাতার চলছে আন্দোলন বিক্ষোভ। এই ঘটনায় কেবলমাত্র সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলেন্টিয়ার গ্রেফতার হয়েছেন। কিন্তু এই ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ না কেউ জড়িত থাকতে বলে থাকতে পারে বলে সন্দেহ আন্দোলনকারীদের। কলকাতা হাই কোর্টে আজ এই মামলার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বাধীনতার আগের রাতে রাজপথে মিছিলের ডাক দিয়েছেন মহিলারা।



