টলিউডে শুরু নতুন অধ্যায়—আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এখন গাইছে গান, ভয় পাচ্ছেন শিল্পীরা!

AI ভয়েসে তৈরি গান এখন টলিউডে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মানব কণ্ঠ নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুরেই তৈরি হচ্ছে গান। কী বলছেন শিল্পীরা?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতা: একটা সময় গানের মানেই ছিল সুর, তাল, লয়ের সঙ্গে মানুষের আবেগ। কিন্তু এখন সেই সুরেই ঢুকে পড়েছে Artificial Intelligence (AI)—যেখানে মানুষ নয়, মেশিন গাইছে গান! প্রযুক্তির এই নতুন দুনিয়া এখন টলিউডে ঝড় তুলেছে। কেউ বলছেন “বিপ্লব”, কেউ আবার আশঙ্কা করছেন “এটা গানের ভবিষ্যৎ নয়, বিপদ!”

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি বাংলা গান, যার পুরো ভোকাল AI ভয়েসে তৈরি। গানের কথা ও সুর মানুষের, কিন্তু গলা—একটি কৃত্রিম ভয়েস মডেলের। অল্প সময়েই লক্ষাধিক ভিউ! আর এখানেই শুরু বিতর্ক।

AI দিয়ে গান তৈরি—কীভাবে সম্ভব?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন এতটাই উন্নত যে, নির্দিষ্ট গায়কের গলা “ট্রেন” করিয়ে তার মতোই সাউন্ড তৈরি করা সম্ভব। যেমন, কেউ চাইলে আরিজিৎ সিংয়ের ভয়েসে নতুন গান বানাতে পারে—যদিও সেই গানটি আসলে গেয়েছেন কম্পিউটার!
AI অ্যালগরিদম শব্দ, পিচ, টোন আর রিদম বিশ্লেষণ করে সেই ভয়েস ক্লোন তৈরি করে। তারপর সুরে বসিয়ে দেয় “ভার্চুয়াল গান”।

এআই কেমন গান তৈরী করতে পারে তা পরীক্ষা করেছিলাম আমরাও। নজরবন্দির পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের দুর্গাপুজো উপলক্ষে একটি গান বানানো হয় AI দিয়ে। যার কথা, সুর, কন্ঠ ও মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট সবই করেছিল বিভিন্ন AI প্ল্যাটফর্ম। (সম্পূর্ণ ফ্রি ভার্সান ব্যবহার করেছিলাম আমরা। গানটি বানাতে সময় লাগে ২ মিনিটের মত। সেটি ইউটিউবে আপলোড করা হয়। ইউটিউবের থাম্বল কি হবে সেটাও বানিয়ে দেয় এআই। আপলোড করার পর সেই গান ১ হাজার ১৬১ বার দেখা হয়েছে। দেখে নিন আপনিও –https://youtu.be/18WmCoMUExk)

টলিউডে শুরু নতুন অধ্যায়—আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এখন গাইছে গান, ভয় পাচ্ছেন শিল্পীরা!
টলিউডে শুরু নতুন অধ্যায়—আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এখন গাইছে গান, ভয় পাচ্ছেন শিল্পীরা!

গায়ক-সুরকারদের আশঙ্কা:
বিখ্যাত টলিউড সংগীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত বলেন, “AI ভয়েস গান মানে শুধু প্রযুক্তির প্রদর্শন নয়, এটা একরকম মানব কণ্ঠের বিকল্প তৈরি করা। ভয় হচ্ছে, এর ফলে প্রকৃত শিল্পীরা হারিয়ে যাবেন।”

অন্যদিকে, তরুণ সংগীতশিল্পী অনুপম রায় জানালেন, “প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে বরং ব্যবহার করতে হবে। তবে মানবিক আবেগ AI দিতে পারে না, সেখানেই আমাদের জয়।”

দর্শকরা কী বলছেন?
অনেক তরুণ শ্রোতা বলছেন, AI গান শুনতে ‘পারফেক্ট’ লাগে—না সুর ফসকায়, না তালের ভুল। তবে পুরনো প্রজন্মের শ্রোতারা বলছেন, “এই পারফেকশনেই গানের প্রাণ নেই!”

Facebook ও X (Twitter)-এ চলছে হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড — #AIMusic #TollywoodAI #ArtificialVoiceSong। অনেকেই মজা করে লিখেছেন, “আগামী দিনে হয়তো দেব-র গলায়ও গান গাইবে AI!”

বিশেষজ্ঞদের মত:
টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, AI মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ বদলে দিতে চলেছে। বিশ্বজুড়ে Drake, The Weeknd, Taylor Swift–এর ভয়েসেও ইতিমধ্যেই AI গান তৈরি হয়েছে, যা YouTube-এ মিলিয়ন ভিউ পেয়েছে। এবার সেই ঢেউ এসে পৌঁছেছে টলিউডেও।

তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—AI কি মানুষের অনুভূতি বুঝতে পারে?
যেদিন পারবে, সেদিনই হয়তো মানুষের গলার দরকারই থাকবে না।

শেষ কথা:
AI ভয়েসে গান তৈরি করা নিঃসন্দেহে এক বিশাল প্রযুক্তিগত সাফল্য। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত আছে কপিরাইট, নৈতিকতা, ও শিল্পীর মর্যাদার প্রশ্নও। টলিউডে এই নতুন ঝড় এখনই থামছে না—বরং শুরু হয়েছে এক “AI বনাম Emotion” যুগের লড়াই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত