নজরবন্দি ব্যুরোঃ আদালতে গিয়ে ক্ষমা চাইলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য্য। শুনানির পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, ‘‘আদালতে পুরো বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে। আদালত সন্তুষ্ট। আমিও অবমাননার দায় থেকে মুক্ত। এ ছাড়া অন্য যে বিষয়গুলি আদালতের বিচারাধীন, সেই নিয়ে আমি কিছু বলব না।’’
আরও পড়ুনঃ প্রচার থেকে মনোনয়ন পেশ, প্রিয়াঙ্কার পাশে হেভিওয়েট শুভেন্দু-দিলীপ-অর্জুন
ঘটনা আবর্তিত হচ্ছে ২০১৪ সালের প্রাথমিকের নিয়োগ নিয়ে। ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেট পরীক্ষায় ৬টি প্রশ্ন ভুল ছিল। সেই প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, যাঁরা ওই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েছেন তাদের পুরো নম্বর দিতে হবে। কিন্তু সেই নম্বর দেওয়া হয়নি। যার ফলে হেনস্থার শিকার হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। পরে ভুল প্রশ্নপত্রের উত্তরদাতাদের নম্বর না দেওয়ার কারণে পরবর্তী সময় আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয় মানিক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে।
আদালত অবমাননা মামলার শুনানি শুরু হওয়ার আগেই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে মামলাটিতে মানিক ভট্টাচার্যকে যুক্ত করা হয়। পর্ষদের কাণ্ডকারখানায় চরম বিরক্ত বিচারপতি মানিক ভট্টাচার্যকে হাইকোর্টে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেন। বিচারপতির নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিকের আইনজীবী মানিকবাবুকে আরেকটু সময় দেওয়ার আর্জি জানান। কিন্তু বিচারপতিসেই আইনজীবীর বক্তব্যে কর্ণপাত করেননি।
সশরীরে আদালতে গিয়ে ক্ষমা চাইলেন মানিক ভট্টাচার্য্য।

নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল আজ, অর্থাৎ সোমবার বেলা ১১ টায় সশরীরে আদালতে হাজিরা দিতে হবে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য্যকে। তার পরেই আজ সকালে ঠিক সময়ে আদালতে পৌঁছে যান মানিক বাবু। আদালতে গিয়ে তিনি ক্ষমা চাইলে বিচারক অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, ‘‘আপনাকে অপমান করার কোনও উদ্দেশ্য নেই আদালতের। কিন্তু আপনি আদালতের নির্দেশ মানেননি। তাই এই পদক্ষেপ। আপনি ল’কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন? তার পরও আইনকে অবহেলা করেছেন?”
সঙ্গে বলেন, ‘‘আপনি পর্ষদের সর্বোচ্চ পদে রয়েছেন। আপনার ইগো থাকতে পারে না। নাগরিকের সঙ্গে নাগরিকের লড়াই চলতে পারে না। আপনার প্রচুর ক্ষমতা। অনেক টাকা। যিনি মামলাকারী তাঁর কি আছে?’’ উল্লেখ্য দিন কয়েক আগেই ১৯ জন মামলাকারীকে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়ার জন্য। নিজের আয় থেকে মানিক বাবুকে ৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
শুনানি চলাকালীন মানিক বাবু জানান, মামলাকারী নীলোৎপল গুছাইতকে ইতিমধ্যে নিয়োগপত্র দিয়েছে পর্ষদ। তাতে খুশি হয়ে বাকি নিয়ীগ পর্ব দ্রুত মেটানোর নির্দেশ দিয়ে বিচারপতি বলেছেন, ‘‘আপনি তাঁদের পিতৃতুল্য। তাই সে রকম ব্যবহার করাই উচিত। আপনি একটি আইনের কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। এখানে অনেকেই আপনার ছাত্র। আদালত অবমাননার দায়ে আপনাকে ডেকে পাঠানো হবে, এটা ভালো লাগে না। যোগ্য প্রার্থীদের চাকরির ব্যবস্থা করুন। এখন সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে যে শূন্য পদগুলি তৈরি হবে, সেখানে নিয়োগের ব্যবস্থা করুন। এই চাকরিপ্রার্থীরা কত দিন আর লড়াই করবেন।”



