কলকাতার ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসে বদলে যাচ্ছে রাস্তার পরিচিত চেহারা। এতদিন নীল-সাদা রঙের ডিভাইডার ও ব্যারিকেড যেখানে নজরে পড়ত, সেখানে এবার হলুদ, কালো এবং সাদা রঙের ব্যবহার শুরু হয়েছে।
এর আগে ধর্মতলা ও সংলগ্ন এলাকায় রাস্তা, ডিভাইডার এবং ব্যারিকেডের রঙে পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। এবার সেই একই ধরনের রঙের ব্যবহার ইএম বাইপাসের কিছু অংশেও নজরে আসছে।
ইএম বাইপাস কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ। উত্তর কলকাতার উল্টোডাঙা থেকে দক্ষিণে কামালগাজি পর্যন্ত বিস্তৃত এই করিডর শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
হলুদ ও কালোর মধ্যে দৃশ্যমানতার পার্থক্য বেশি। ফলে বিভিন্ন আলোর পরিস্থিতিতে এবং দূর থেকেও এই ধরনের রঙের কনট্রাস্ট সহজে চোখে পড়ে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমানতা বাড়ানোর জন্য বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় হলুদ-কালো রঙের ব্যবহার দেখা যায়।
কলকাতার রাস্তার ডিভাইডার ও ব্যারিকেডে এই রঙের ব্যবহারও সেই দৃশ্যমানতার বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত বলে জানানো হয়েছে। তবে ইএম বাইপাসের কোন কোন অংশে কতটা পরিসরে এই রঙের পরিবর্তন হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত সরকারি নির্দেশ এই কপিতে উল্লেখ নেই।
পশ্চিমবঙ্গে আগের সরকারের সময়ে সরকারি ভবন, ফুটপাথের রেলিং এবং বিভিন্ন সরকারি পরিকাঠামোয় নীল-সাদা রঙের ব্যবহার ব্যাপকভাবে দেখা যেত। এবার শহরের রাস্তা ও পথ-পরিকাঠামোয় সেই রঙের পরিবর্তনের ছবি সামনে আসছে।
তবে নীল-সাদা রঙের পরিবর্তনের কারণ হিসেবে কোনও নির্দিষ্ট সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এই প্রতিবেদনের তথ্যভান্ডারে নেই। তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে রঙ বদলের সরাসরি কারণ-সম্পর্ক স্থাপন না করে এটিকে শহরের রাস্তার পরিকাঠামোয় নতুন রঙের ব্যবহার হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
শহরের রাস্তা পরিষ্কার রাখা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং বেআইনি পার্কিং বন্ধ করার বিষয়ে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল একাধিকবার প্রশাসনের অবস্থান জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করতে দেখা গিয়েছে। সল্টলেকে রাস্তার উপর বর্জ্য এবং ফুটপাত দখলের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
বেআইনি পার্কিং নিয়েও তিনি কড়া অবস্থান নিয়েছেন। নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া যেখানে-সেখানে গাড়ি রাখলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
ফুটপাতের সৌন্দর্যায়ন এবং শহরের পরিকাঠামোকে আরও সুসংগঠিত করার বিষয়েও অগ্নিমিত্রা পাল বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। রবীন্দ্র সরোবর সংলগ্ন এলাকায় তিনি ফুটপাথের জন্য হলুদ-কালো রঙের ব্যবহারের কথাও প্রকাশ্যে বলেছেন।
শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে জরিমানার ব্যবস্থাও কড়া করার কথা জানানো হয়েছে। প্রকাশ্যে আবর্জনা ফেলা এবং প্রস্রাব করার ক্ষেত্রে জরিমানার কথা প্রশাসনের তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল।
অর্থাৎ, শুধু রাস্তার রঙ পরিবর্তন নয়, কলকাতার রাস্তা, ফুটপাত, পার্কিং এবং পরিচ্ছন্নতা—এই একাধিক ক্ষেত্রেই নতুন প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে।
ইএম বাইপাসে হলুদ-কালো-সাদা ডিভাইডার ও ব্যারিকেডের ব্যবহার সেই পরিবর্তনেরই দৃশ্যমান অংশ। আগামী দিনে কলকাতার আরও কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বা এলাকায় একই রঙের নকশা দেখা যায়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।



