২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার তিরুবনন্তপুরমের গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডেতে ইতিহাস লিখলেন বিরাট কোহলি। ম্যাচ শুরুর আগে তাঁর সামনে ছিল ১৫ হাজার ওয়ানডে রানের মাইলফলক। দরকার ছিল মাত্র ৫৯ রান। সেই লক্ষ্য পেরিয়ে যাওয়ার পর থামেননি ভারতের তারকা ব্যাটার। বরং মাইলফলককে আরও স্মরণীয় করে তুলেছেন সেঞ্চুরি করে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ২৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বিরাট কোহলি নিজের পরিচিত ছন্দেই ব্যাট করেন। ২৯তম ওভারে আলজারি জোসেফের বলে পুল শট খেলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ১৫ হাজার ওয়ানডে রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এর সঙ্গেই পুরুষদের ওয়ানডে ক্রিকেটে এই কীর্তি গড়া দ্বিতীয় ব্যাটার হয়ে গেলেন বিরাট। তাঁর আগে একমাত্র সচিন তেন্ডুলকর এই মাইলফলকে পৌঁছেছিলেন।
বিরাটের এই মাইলফলকের বিশেষত্ব আরও বেশি, কারণ সচিনের তুলনায় কম ইনিংসেই তিনি ১৫ হাজার রানের গণ্ডি পেরিয়েছেন। ম্যাচের আগে বিরাটের সংগ্রহ ছিল ১৪,৯৪১ রান। ফলে মাত্র ৫৯ রান করলেই ইতিহাস তৈরি হত। সেই কাজটি করে ফেলেন তিনি দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে।
১৫ হাজার রান পূর্ণ করার পরও বিরাটের ব্যাট থামেনি। বরং রান তোলার গতি আরও বাড়িয়ে দেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের বিরুদ্ধে একের পর এক নিয়ন্ত্রিত শট খেলতে থাকেন। কভার ড্রাইভ, পুল, ফ্লিক থেকে শুরু করে মাঠের চারদিকেই তাঁর ব্যাটের দাপট দেখা যায়।
এই ইনিংসেই বিরাট নিজের ওয়ানডে সেঞ্চুরির সংখ্যাও আরও বাড়িয়ে নেন। ১৫ হাজার রানের মতো বিরাট মাইলফলক এবং সেঞ্চুরি—একই ইনিংসে দুটি বড় কীর্তি ভারতীয় ব্যাটারের এই ইনিংসকে আরও উল্লেখযোগ্য করে তুলেছে। ম্যাচের মাঝপথেই পরিষ্কার হয়ে যায়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের উপর নিয়ন্ত্রণ তৈরি করে ফেলেছেন তিনি।
এর আগে টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত। তিরুবনন্তপুরমে প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৯৫ রান তোলে। জাস্টিন গ্রিভস দুর্দান্ত শতরান করেন। তিনি ১০৮ বলে ১০১ রান করেন। জন ক্যাম্পবেল করেন ৬২ রান এবং আমির জ্যাঙ্গু অপরাজিত ৫৮ রান যোগ করেন।
ভারতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন কুলদীপ যাদব। ১০ ওভারে মাত্র ৪০ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন তিনি। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ পান দুটি উইকেট, আর নীতীশ কুমার রেড্ডি নেন একটি উইকেট। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বড় রান তুললেও ভারতীয় বোলাররা শেষদিকে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন।
২৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় ইনিংসের শুরুটা অবশ্য পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক ছিল না। তবে শুবমান গিল ও বিরাট কোহলির জুটি পরিস্থিতি সামলে নেয়। গিল নিজের অর্ধশতরানও পূর্ণ করেন। অন্যদিকে বিরাট ধীরে ধীরে নিজের ইনিংসকে বড় করতে থাকেন।
মাইলফলক পেরোনোর পর বিরাটের ব্যাটিংয়ে আরও আত্মবিশ্বাস দেখা যায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করলেও তাঁর শট নির্বাচনের সামনে বারবার সমস্যায় পড়তে হয়। ভারতের রান তাড়ায় তাঁর ইনিংসই হয়ে ওঠে মূল আকর্ষণ।
ওয়ানডেতে ১৫ হাজার রান পূর্ণ করার সঙ্গে বিরাট কোহলি আরও একবার প্রমাণ করলেন কেন এই ফরম্যাটে তাঁর পরিসংখ্যান এতটা ব্যতিক্রমী। এর আগে থেকেই ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি শতরানের রেকর্ড তাঁর দখলে ছিল। এবার ১৫ হাজার রানের বিশেষ ক্লাবেও জায়গা করে নিলেন তিনি।
সচিন তেন্ডুলকর ওয়ানডেতে ১৮,৪২৬ রান নিয়ে এই ফরম্যাটের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। বিরাট এখন সেই তালিকায় দ্বিতীয়। ১৫ হাজারের গণ্ডি পেরিয়ে তাঁর সামনে এবার আরও বড় রানসংখ্যার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ভারতের সামনে বড় জয় তুলে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির দিক থেকেও এই সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় দলে শুবমান গিলের নেতৃত্বে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার রয়েছেন।
প্রথম ম্যাচেই বিরাটের ব্যাট থেকে এমন একটি ইনিংস আসায় ভারতের ব্যাটিং বিভাগে অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মিশ্রণ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১৫ হাজার রান পূর্ণ করার পর সেঞ্চুরি—একই ইনিংসে দুই মাইলফলক ছুঁয়ে বিরাট আবারও ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজের জায়গাকে আরও উজ্জ্বল করলেন।



