ক্রিকেটকে এখনও ‘ডেজিগনেটেড স্পোর্ট’ হিসেবে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। সেই কারণেই আপাতত National Sports Governance Act, 2025-এর আওতায় আসছে না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)—বার্ষিক সাধারণ সভার পর এমনটাই স্পষ্ট করলেন বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া।
২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেট ফিরতে চলেছে। তবে অলিম্পিকের স্থায়ী খেলাগুলির তালিকায় ক্রিকেট এখনও অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই জাতীয় ক্রীড়া আইন নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিসিসিআই। বোর্ডের বক্তব্য, প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে ক্রিকেটকে ‘ডেজিগনেটেড স্পোর্ট’ হিসেবে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হলেই নতুন আইনের নিয়ম মেনে চলবে তারা।
বার্ষিক সাধারণ সভার পর দেবজিৎ সাইকিয়া জানান, নতুন আইনের আওতায় আসার ক্ষেত্রে বিসিসিআইয়ের আপত্তি নেই। তবে তার আগে ক্রিকেটকে আইনের আওতাভুক্ত ‘ডেজিগনেটেড স্পোর্ট’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি না হওয়া পর্যন্ত বোর্ডের মতে, তাদের পক্ষ থেকে আলাদা করে কোনও পদক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই।
সাইকিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখনও কিছু প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা বাকি রয়েছে। সেই কাজ শেষ হওয়ার পরে ক্রিকেটকে তালিকাভুক্ত খেলা হিসেবে ঘোষণা করা হলে বিসিসিআই নতুন ক্রীড়া আইনের বিধি মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।
RTI আইন নিয়েও বিসিসিআইয়ের অবস্থান
National Sports Governance Act-এর পাশাপাশি Right to Information বা RTI আইন নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিসিসিআই। বোর্ডের দাবি, তারা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে কোনও সরকারি অনুদান নেয় না। বরং প্রতি বছর প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা আয়কর দেয় সরকারকে।
এই যুক্তির ভিত্তিতে বিসিসিআইয়ের বক্তব্য, সরকারি অনুদাননির্ভর অন্যান্য ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে তাদের এক করে দেখা উচিত নয়। সাইকিয়ার দাবি, বিসিসিআই নিজেদের বাণিজ্যিক আয়ের উপর নির্ভরশীল এবং সরকারি অর্থে পরিচালিত হয় না।
এই অবস্থানের সঙ্গে ২০২৬ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনের একটি সিদ্ধান্তেরও যোগ রয়েছে। সেই সিদ্ধান্তে CIC জানিয়েছিল, বর্তমান আইনি কাঠামোয় বিসিসিআইকে RTI আইনের অধীনে ‘public authority’ হিসেবে ধরা যায় না। কমিশনের নথিতে বিসিসিআইয়ের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টে ২৭ অক্টোবর ফের শুনানি
বিসিসিআইয়ের অবস্থান এখন সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে শীর্ষ আদালত বিসিসিআই এবং বিভিন্ন রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকে প্রশ্ন করেছিল, কেন তাদের National Sports Governance Act, 2025-এর আওতায় আনা হবে না।
সেই প্রেক্ষাপটে ২৭ অক্টোবর ফের বিষয়টি আদালতে উঠবে। দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, সেদিনই আদালতের সামনে বোর্ড নিজেদের অবস্থান ও ব্যাখ্যা তুলে ধরবে। অর্থাৎ, ক্রিকেটকে ‘ডেজিগনেটেড স্পোর্ট’ হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্ন এবং নতুন আইনের আওতায় বিসিসিআইয়ের অবস্থান—দুই বিষয়ই পরবর্তী শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
অন্যদিকে, National Sports Governance Act নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বিসিসিআই জানিয়েছে, ক্রিকেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনের আওতাভুক্ত করা হলে তারা সেই অনুযায়ী নিয়ম মেনে চলবে। ফলে আপাতত বোর্ডের অবস্থান ‘আইন মানবে না’—এমন নয়; বরং ক্রিকেটকে আইনের অধীনে আনার সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বিসিসিআই।



