পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোর আগে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। এ বার রাজ্যের পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান হিসেবে এক লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা জানালেন তিনি। তবে যেসব পুজো কমিটির আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, তাদের সরকারি সাহায্য না নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বার্তা, অনুদান মূলত সেই পুজোগুলির জন্য, যাদের ক্ষেত্রে এই অর্থ না পেলে পুজো আয়োজন করা কঠিন।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এর আগে একটি কর্মসূচিতে তিনি ছোট বাজেটের পুজোগুলিকে অনুদান দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এবার সেই সিদ্ধান্তের পরিধি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক সহায়তা পাওয়ার প্রয়োজন নেই—এমন পুজো কমিটিগুলির সাহায্য নেওয়া উচিত নয়।
তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর পদ বা ক্ষমতার কোনও অপব্যবহার করতে চান না তিনি। তাই যেসব পুজো কমিটি নিজেদের আর্থিক সামর্থ্যে উৎসব আয়োজন করতে পারে, তাদের কাছে সরকারি অনুদান না নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘যাদের এই টাকা না হলে পুজো করতে পারবেন না, তাদের জন্য সরকার এক লক্ষ টাকা দেবে।’’ অর্থাৎ আর্থিক ভাবে দুর্বল এবং ছোট বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকেই সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
পুজোর মরসুমে রাজ্য সরকারের অনুদান নিয়ে প্রতি বছরই চর্চা হয়। এবারও পুজো কমিটিগুলির জন্য সরকারি সহায়তার ঘোষণা সামনে আসতেই বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এক লক্ষ টাকা অনুদানের ঘোষণায় ছোট পুজো কমিটিগুলির কাছে তা গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা হয়ে উঠতে পারে।
তবে একই সঙ্গে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলির প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর বার্তাও স্পষ্ট—যাঁদের নিজস্ব আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, তাঁরা যেন সরকারি অর্থের উপর নির্ভর না করেন। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, সীমিত সরকারি অর্থ মূলত প্রয়োজন রয়েছে এমন পুজো কমিটিগুলির কাছেই পৌঁছনো উচিত।
ফলে এ বারের দুর্গাপুজোয় একদিকে সরকারি অনুদানের অঙ্ক দাঁড়াল এক লক্ষ টাকা, অন্যদিকে আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল পুজো কমিটিগুলিকে সেই অর্থ ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হল। শেষ পর্যন্ত কতগুলি পুজো কমিটি এই সরকারি সাহায্য নেবে, এখন সেটাই দেখার।



