অ্যাপ-বাইক পরিষেবা ব্যবহার করে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে চেয়েছিলেন এক তরুণ। কিন্তু রাইড চলাকালীনই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়ার অভিযোগ উঠল উত্তরপ্রদেশে। দাবি, বাইক চালানোর সময়ই যাত্রীর পা ও উরুতে বারবার আপত্তিকর ভাবে স্পর্শ করেন র্যাপিডোর (Rapido) চালক। বাধা দিয়েও পরিস্থিতি বদলায়নি বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত বাইকের পিছনে বসেই ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন ওই যাত্রী।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বাইক চলার সময় চালকের একটি হাত পিছনের দিকে গিয়ে যাত্রীর শরীরে স্পর্শ করছে। অভিযোগ, একাধিক বার হাত সরিয়ে দিতে বললেও চালক তা শোনেননি। এমনকি যাত্রী নিজেই চালকের হাত সরিয়ে দেওয়ার পরও একই ধরনের আচরণ চলতে থাকে বলে দাবি করা হয়েছে।
ওই তরুণের অভিযোগ, যাত্রাপথের প্রায় পুরো সময়জুড়েই তাঁকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে হয়েছে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বাইক চলন্ত অবস্থায় তৎক্ষণাৎ নেমে যাওয়ারও সুযোগ ছিল না বলে জানান তিনি। তাই পুরো ঘটনার প্রমাণ রাখতে নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও রেকর্ড করেন।
পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান ওই যাত্রী। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অনেকেই যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং অ্যাপ-ক্যাব বা অ্যাপ-বাইক পরিষেবায় চালকদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় র্যাপিডো কর্তৃপক্ষ। সংস্থার তরফে ওই যাত্রীর সঙ্গে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অভিজ্ঞতার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে র্যাপিডো জানায়, অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এরপর ওই যাত্রীর কাছ থেকে রাইড সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে সংস্থাটি। অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর অভিযুক্ত চালককে র্যাপিডোর প্ল্যাটফর্ম থেকে স্থায়ী ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
র্যাপিডোর তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং স্বার্থের সঙ্গে কোনও ভাবেই আপস করা হবে না। অভিযোগের ভিত্তিতে চালকের বিরুদ্ধে সংস্থাগত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি আইনিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে।
এই ঘটনার পর নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার আগে অন্য কোনও যাত্রীর সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ হয়েছিল কি না। তাঁদের আশঙ্কা, এমন ঘটনা ঘটলেও অনেকে হয়তো সামাজিক চাপ বা নিরাপত্তার কারণে তা প্রকাশ্যে আনেন না।
তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেখানে অনেকেই যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত অভিযোগ জানানোর উপর জোর দিয়েছেন। একইসঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপের দাবিও উঠেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পরই পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।



