প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের রাতেই এল গর্বের খবর। ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল সোফিয়া কুরেশি-কে এ বছর বিশিষ্ট সেবা পদক প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্রে জানানো হয়েছে, দেশের সামরিক বাহিনীতে তাঁর অসামান্য অবদান, গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও কমান্ড দায়িত্বে দক্ষ নেতৃত্ব এবং পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে তাঁকে।
২৫ জানুয়ারি, প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে কেন্দ্রের তরফে গ্যালান্ট্রি ও ডিস্টিংগুইশড সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডসের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ বছর মোট ৮৫টি বিশিষ্ট সেবা পদক ঘোষণা করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর অফিসারদের অসামান্য ও ধারাবাহিক অবদানকে স্বীকৃতি জানাতেই এই পদক প্রদান করা হয়।
সম্প্রতি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ব্রিফিংয়ে নেতৃত্ব দিয়ে দেশবাসীর নজরে এসেছিলেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি। সেই ব্রিফিংয়ে তিনি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছিলেন কীভাবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় বায়ুসেনা। অপারেশনের প্রতিটি ধাপ, তার যৌক্তিকতা এবং প্রমাণ-সহ উপস্থাপনায় তাঁর আত্মবিশ্বাসী নেতৃত্ব দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়। দেশের মেয়ের এই সাহসিকতা ও দৃঢ়তায় আরও একবার সামনে আসে নারীশক্তির বার্তা।
তবে কর্নেল সোফিয়া কুরেশির পরিচিতি শুধু সাম্প্রতিক কোনও অভিযানে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বগুণ বহু আগেই জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৬ সালে ১৮টি দেশের অংশগ্রহণে ভারতের একটি আন্তর্জাতিক সামরিক মহড়ায় নেতৃত্ব দিয়ে প্রথমবার শিরোনামে উঠে আসেন তিনি। প্রথম ভারতীয় মহিলা অফিসার হিসেবে এই দায়িত্ব সামলানোর কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন সোফিয়া।
কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং দায়িত্বে ধারাবাহিক সাফল্য, বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি আরও মজবুত করা এবং সংকটকালে কার্যকর নেতৃত্ব—এই সব কিছুর সম্মিলিত স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁর নাম এ বছরের পদক তালিকায় স্থান পেয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, এ বছর রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন শ্রেণিতে একাধিক সামরিক সম্মান অনুমোদন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২টি কীর্তি চক্র, ১০টি শৌর্য চক্র এবং বীরত্বের জন্য ৪৪টি সেনা পদক। পাশাপাশি ঘোষণা করা হয়েছে ১৯টি পরম বিশিষ্ট সেবা পদক, ৩৫টি অতি বিশিষ্ট সেবা পদক এবং ৭টি যুদ্ধ সেবা পদক।
এছাড়াও সম্মানপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন ৮১ জন ‘মেনশন-ইন-ডিসপ্যাচেস’ প্রাপক। তাঁরা অপারেশন রক্ষক, অপারেশন স্নো লেপার্ড, অপারেশন হিফাজত, অপারেশন অর্কিড, অপারেশন মেঘদূত-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান, উদ্ধারকাজ ও আহতদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার মিশনে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।



