এসআইআরের চাপেই কি প্রাণ গেল? এবার মালদহে বিএলও-র মৃত্যু ঘিরে তীব্র বিতর্ক

মালদহে বিএলও সম্পৃতা চৌধুরী সান্যালের মৃত্যু ঘিরে অভিযোগ—এসআইআরের অতিরিক্ত কাজের চাপেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। রাজ্যে মৃত বিএলও-র সংখ্যা বেড়ে সাত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে উদ্বেগের আবহে ফের মর্মান্তিক ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে। বুধবার ভোরে মালদহে এক বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও)-এর মৃত্যু ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠল এসআইআরের কাজের চাপ নিয়ে। মৃতার পরিবার স্পষ্ট অভিযোগ তুলেছে—অতিরিক্ত দায়িত্ব ও বিশ্রামের সুযোগ না পাওয়াই প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ওই বিএলও-র।

মালদহের ইংরেজবাজার পুরসভার ফুলবাড়ি পাকুরতলা এলাকার বাসিন্দা র বুধবার ভোরে নিজের বাড়িতেই মৃত্যু হয়। পেশায় তিনি একজন আশাকর্মী ছিলেন। পাশাপাশি ইংরেজবাজার পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৬৩ নম্বর বুথে বিএলও-র দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসাও চলছিল। কিন্তু তার মধ্যেই এসআইআরের কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছিল তাঁকে।

মৃতার স্বামীর দাবি, শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও এসআইআরের কাজ বন্ধ রাখার কোনও সুযোগ পাননি সম্পৃতা। তার উপর শীতের প্রকোপ ছিল প্রবল। এক দিকে আশাকর্মীর দায়িত্ব, অন্য দিকে বিএলও হিসেবে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ—দুটির চাপ সামলাতে গিয়ে তিনি কার্যত ভেঙে পড়েছিলেন। চিকিৎসক বিশ্রামের পরামর্শ দিলেও, কাজের চাপে সেই সুযোগ মেলেনি বলে অভিযোগ পরিবারের।

খবর পেয়ে মৃতার বাড়িতে যান ইংরেজবাজার পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর গায়ত্রী ঘোষ। তিনি সরাসরি Election Commission of India-কে দায়ী করে বলেন, অতিরিক্ত চাপের কারণেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন সম্পৃতা, যার পরিণতি মৃত্যু। তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ বিজেপি। দলের দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “যে কোনও মৃত্যু দুঃখজনক। কিন্তু সব দায় নির্বাচন কমিশনের উপর চাপালে চলবে না। তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরাও বিএলও-দের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন, সেটাও অস্বীকার করা যায় না।”

এই মৃত্যুর সঙ্গে রাজ্যে এসআইআর পর্বে বিএলও-দের একের পর এক মৃত্যুর তালিকা আরও দীর্ঘ হল। এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে সাত জন বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এসআইআরের কাজ শুরুর মাত্র চার দিনের মাথায় প্রথম মৃত্যু হয়েছিল পূর্ব বর্ধমানের বিএলও নমিতা হাঁসদারের। তার দশ দিনের মধ্যে জলপাইগুড়িতে এক বিএলও-র মৃত্যু হয়। অভিযোগ উঠেছিল, কাজের চাপে আত্মঘাতী হন ডুয়ার্সের মাল ব্লকের নিউ গ্লেনকো চা-বাগান এলাকার বাসিন্দা শান্তিমুনি ওঁরাও।

এর পরে ২১ নভেম্বর নদিয়ার কৃষ্ণনগরে আত্মঘাতী হন বিএলও রিঙ্কু তরফদার। তাঁর দেহের পাশে উদ্ধার হয়েছিল একটি সুইসাইড নোট। পরে মুর্শিদাবাদে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় জাকির হোসেন নামে এক বিএলও-র। গত ২৮ ডিসেম্বর বাঁকুড়ার রানিবাঁধে হারাধন মণ্ডলের আত্মহত্যা এবং গত শনিবার কোচবিহারের আশিসের মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মালদহে ফের একটি প্রাণহানি—যা এসআইআর প্রক্রিয়ার মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন