এসআইআর (Special Intensive Revision) ঘিরে তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও ক্ষোভ এবার রাস্তায় নামল। উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগর-এ মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যেই শুরু হল মারপিট ও ধস্তাধস্তি। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতাবালা ঠাকুর এবং বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর-এর অনুগামীদের মধ্যে এই সংঘর্ষে পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, দুই পক্ষের কর্মীরাই একে অপরকে মাটিতে ফেলে মারধর করেন। মুহূর্তের মধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা ঠাকুরনগর মতুয়াগড় এলাকায়।
কেন সংঘর্ষ?
মমতাবালা ঠাকুরপন্থীদের দাবি, সম্প্রতি শান্তনু ঠাকুর এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তাতেই মতুয়া সমাজে প্রবল আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সেই মন্তব্যের ব্যাখ্যা চাইতেই মিছিল করে শান্তনু ঠাকুরের বাড়ির দিকে এগোচ্ছিলেন তাঁরা। অভিযোগ, বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই শান্তনু ঠাকুরের লোকজন তাঁদের উপর চড়াও হয়।
অন্যদিকে, শান্তনু ঠাকুরপন্থীদের পাল্টা বক্তব্য— আগে হামলা চালিয়েছেন মমতাবালার অনুগামীরাই। তাঁদের মাটিতে ফেলে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ।
‘হার্মাদ বাহিনী’ মন্তব্য
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী দাবি করেন,
“যারা এই হামলা চালিয়েছে তারা হার্মাদ বাহিনী, দুষ্কৃতী। কারা কী উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটাল, সেটা আমাদের কাছেও পরিষ্কার নয়।”
শান্তনুপন্থীদের আরও অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রকৃত মতুয়া নন। তাঁদের দাবি, মমতাবালা ঠাকুর ভুয়ো মতুয়া সাজিয়ে তৃণমূল কর্মীদের পাঠিয়েছেন অশান্তি তৈরির জন্য।
এই অভিযোগ উড়িয়ে মমতাবালাও পাল্টা বলেন, শান্তনু ঠাকুরই ভুয়ো মতুয়াদের দিয়ে পরিকল্পিত ভাবে গোলমাল পাকিয়েছেন।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু কী?
এই সংঘর্ষের মূল কারণ শান্তনু ঠাকুরের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেছিলেন,
“৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা ও অনুপ্রবেশকারীর নাম বাদ দিতে গিয়ে যদি এক লক্ষ মতুয়াকে ভোটাধিকার থেকে বাদ দিতে হয়, তা মেনে নিতে হবে।”
এই মন্তব্যকেই মতুয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বলে মনে করছেন মমতাবালাপন্থীরা। তাঁদের দাবি, এতে মতুয়াদের ভোটাধিকার হারানোর ভয় তৈরি হয়েছে এবং সমাজে গভীর ক্ষোভ জমেছে।
সব মিলিয়ে, মতুয়া রাজনীতির কেন্দ্র ঠাকুরনগরে এই সংঘর্ষ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের ভূমিকা কী হয়, সেদিকেই এখন নজর।



